Dhaka ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

গঙ্গার ন্যায়সঙ্গত পানিবণ্টনে নতুন চুক্তির বিষয়ে ভারতকে বাংলাদেশের তাগিদ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ এবং চার কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য স্ট্রেইট টাইমসের’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি নবায়ন বা নতুন দ্বিপক্ষীয় রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ভারতের প্রতি আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দিল্লি থেকে কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।

গঙ্গা নদী অববাহিকার ৫ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের ধান ও গমের ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নদ-নদী থেকে মাছ বিলুপ্ত হতে বসেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক পানিবণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বাংলাদেশের জন্য এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি প্রয়োজন যা পারস্পরিক সুবিধা ও ন্যায্য সম্মানের ওপর ভিত্তি করে রচিত হবে। অপরদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে উজানে অতিরিক্ত বাঁধ নির্মাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে নতুন চুক্তিতে পুরো নদী অববাহিকাকে একক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

এদিকে, উভয় দেশের আনুষ্ঠানিক যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ২০২২ সালের পর আর অনুষ্ঠিত হয়নি, পাশাপাশি ২০১১ সাল থেকে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিও স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হতে চলায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশগত ও সামাজিক সংকট নতুন করে গভীর হচ্ছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

গঙ্গার ন্যায়সঙ্গত পানিবণ্টনে নতুন চুক্তির বিষয়ে ভারতকে বাংলাদেশের তাগিদ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ এবং চার কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য স্ট্রেইট টাইমসের’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি নবায়ন বা নতুন দ্বিপক্ষীয় রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ভারতের প্রতি আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দিল্লি থেকে কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।

গঙ্গা নদী অববাহিকার ৫ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের ধান ও গমের ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নদ-নদী থেকে মাছ বিলুপ্ত হতে বসেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক পানিবণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বাংলাদেশের জন্য এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি প্রয়োজন যা পারস্পরিক সুবিধা ও ন্যায্য সম্মানের ওপর ভিত্তি করে রচিত হবে। অপরদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে উজানে অতিরিক্ত বাঁধ নির্মাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে নতুন চুক্তিতে পুরো নদী অববাহিকাকে একক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

এদিকে, উভয় দেশের আনুষ্ঠানিক যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ২০২২ সালের পর আর অনুষ্ঠিত হয়নি, পাশাপাশি ২০১১ সাল থেকে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিও স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হতে চলায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশগত ও সামাজিক সংকট নতুন করে গভীর হচ্ছে।