ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ, দলীয়করণ ও নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ ব্যর্থতার অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। এই আসনে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “কিছুক্ষণ আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব প্রেস ব্রিফিংয়ে বললেন, ঠাকুরগাঁও-১-এর উপনির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে বা হচ্ছে—মিডিয়ায় দেখেছেন। আমরা এতে খুব বিস্মিত হচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তির এই যুগে যেসব তথ্য ও ঠাকুরগাঁওয়ের দৃশ্য-ছবিগুলো ভেসে আসছে, তা দেখার পর এই নির্বাচনকে ‘সুষ্ঠু’ কীভাবে বলা যায়? সরকারি দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে এ ধরনের অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, “আমরা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সরেজমিন পরিদর্শন ও নির্বাচনি কাজে অংশ নেওয়ার জন্য বারবার সেখানে সফর করেছি। আমাদের মিডিয়া-প্রচার বিভাগ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের নিয়ে গঠিত একটি বড় টিম সেখানে কাজ করেছে। ঢাকায় এসে আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের কাছে ৯ দফা লিখিত অভিযোগ এবং তিনটি দাবি পেশ করে এসেছিলাম। পরবর্তীতে গতকাল ১১ দলের পক্ষ থেকে হামিদুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে একটি সমন্বয়ক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে লিখিতভাবে অনিময় ও দাবি তুলে ধরে। কিন্তু খুব দুঃখজনক যে, দাবিগুলো মানার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন শুধু মুখে আশ্বস্ত করেছে, কার্যত কোনো ফলাফল আমরা দেখিনি।”
তিনি নির্বাচনি মাঠে সংঘটিত প্রধান অনিয়মগুলো তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। একজন ভদ্রমহিলা ভোট দিতে গিয়ে শোনেন, তাঁর ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ভোটারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে, যারা চাকরিজীবী, তাদের রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানো হয়েছে। নির্ধারিত সময় দুপুর ২টার আগে প্রচারণা চালানো, রঙিন পোস্টার ব্যবহার ও ধানের শীষের প্রতীকের অপব্যবহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে।






















