Dhaka ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

২০২৭ সালের নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার শুভ উদ্বোধন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৩০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

উত্তরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ও বহু প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র বাস্তব কাজ আগামী ২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল’ সরজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘোষণা দেন।

তিস্তা মেগা প্রকল্পের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, “ইতোমধ্যে তিস্তাসংক্রান্ত সংবেদনশীল ইস্যুগুলো নিয়ে আমাদের প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কারিগরি বা টেকনিক্যাল পর্যায়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। উভয় দেশের নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কারিগরি কমিটি নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বর্তমানে তিস্তা নদীর ফিজিবিলিটি স্টাডি বা ফিজিবিলিটি রিপোর্ট (সম্ভাব্যতা যাচাই) প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমাদের অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরে এলেই আশা করছি এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়ে যাব।”

প্রকল্পের নিখুঁত রূপরেখা ও নকশা প্রণয়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বুয়েটের খ্যাতনামা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার মতো উন্নত দেশের অভিজ্ঞ পরামর্শকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রাপ্ত মূল্যবান পরামর্শের সমন্বয়ে একটি অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি করার কাজ চলছে। কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনা করলে এই অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ডিপিপি প্রস্তুত করতে আরও আট থেকে নয় মাস সময় লেগে যাবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অবহেলিত উত্তরবঙ্গের বিপুল জনগোষ্ঠীর ভাগ্য বদলে যাবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী এবং রংপুর—এই পাঁচটি সীমান্তবর্তী জেলার অন্তত তিন কোটি মানুষের বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দুঃখ-দুর্দশা চিরতরে দূর হবে এবং তাঁদের বহুল প্রতিক্ষীত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটবে।

এদিকে মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খালের স্থানীয় গুরুত্ব ও উপযোগিতা তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “আগামী ১৯ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লালমনিরহাট সফর করবেন এবং তাঁকে দিয়েই স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এই নিষ্কাশন খালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করানো হবে। এই প্রকল্প চালুর ফলে স্থানীয় কয়েক হাজার কৃষক সরাসরি নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাবেন। তা ছাড়া পরিবেশ রক্ষায় খালের দুই পাশে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে, যা এক নতুন আধুনিক লালমনিরহাট গড়ার দ্বার উন্মোচন করবে।”

উক্ত পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাাউবো) নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় সিভিল প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৭ সালের নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার শুভ উদ্বোধন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৩০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

উত্তরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ও বহু প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র বাস্তব কাজ আগামী ২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল’ সরজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘোষণা দেন।

তিস্তা মেগা প্রকল্পের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, “ইতোমধ্যে তিস্তাসংক্রান্ত সংবেদনশীল ইস্যুগুলো নিয়ে আমাদের প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কারিগরি বা টেকনিক্যাল পর্যায়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। উভয় দেশের নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কারিগরি কমিটি নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বর্তমানে তিস্তা নদীর ফিজিবিলিটি স্টাডি বা ফিজিবিলিটি রিপোর্ট (সম্ভাব্যতা যাচাই) প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমাদের অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরে এলেই আশা করছি এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়ে যাব।”

প্রকল্পের নিখুঁত রূপরেখা ও নকশা প্রণয়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বুয়েটের খ্যাতনামা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার মতো উন্নত দেশের অভিজ্ঞ পরামর্শকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রাপ্ত মূল্যবান পরামর্শের সমন্বয়ে একটি অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি করার কাজ চলছে। কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনা করলে এই অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ডিপিপি প্রস্তুত করতে আরও আট থেকে নয় মাস সময় লেগে যাবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অবহেলিত উত্তরবঙ্গের বিপুল জনগোষ্ঠীর ভাগ্য বদলে যাবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী এবং রংপুর—এই পাঁচটি সীমান্তবর্তী জেলার অন্তত তিন কোটি মানুষের বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দুঃখ-দুর্দশা চিরতরে দূর হবে এবং তাঁদের বহুল প্রতিক্ষীত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটবে।

এদিকে মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খালের স্থানীয় গুরুত্ব ও উপযোগিতা তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “আগামী ১৯ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লালমনিরহাট সফর করবেন এবং তাঁকে দিয়েই স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এই নিষ্কাশন খালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করানো হবে। এই প্রকল্প চালুর ফলে স্থানীয় কয়েক হাজার কৃষক সরাসরি নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাবেন। তা ছাড়া পরিবেশ রক্ষায় খালের দুই পাশে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে, যা এক নতুন আধুনিক লালমনিরহাট গড়ার দ্বার উন্মোচন করবে।”

উক্ত পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাাউবো) নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় সিভিল প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।