ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ সংলগ্ন ভারত-চীন সীমান্তে উভয় দেশের সেনাবাহিনী আবারো মুখোমুখি অবস্থানে এসেছে। হিমালয় সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে থাকা ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) প্রধান শত্রুজিৎ কাপুর সীমান্তে বাহিনীর এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘটিত প্রাণঘাতী সংঘাতের কয়েক বছর পর সীমান্তে নতুন করে এই টানাপোড়েন তৈরি হলো। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, সাম্প্রতিক এই অচলাবস্থায় তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অরুণাচল প্রদেশের অরুণাচল সীমান্তসংলগ্ন আপার সুবানসিরি এলাকায় চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় টহলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতা বসিরাম সিরাম। তার দাবি, চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থান করছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি।
দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধের মূলে রয়েছে ১৯১৪ সালের ‘ম্যাকমোহন লাইন’, যা ভারত নিজের সীমান্ত হিসেবে গণ্য করলেও চীন তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। বেইজিং পুরো অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্তবিষয়ক পরামর্শ ও সামরিক পর্যায়ে দফায় দফায় আলোচনা হলেও ঐতিহাসিক এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও মেলেনি।























