বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরোনো ও আলোচিত। জাতীয় নিরাপত্তার পরিবর্তে অতীতে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতার ভিত্তি মজবুত করা, বিরোধী মত দমন এবং নজরদারির কাজে এসব সংস্থাকে ব্যবহার করেছে। এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ সহায়তায় নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের নজিরও রয়েছে, যার সূচনা হয়েছিল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এরশাদের আমলে। পরবর্তীতে এক-এগারোর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যেখানে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়াসহ দলটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সম্পৃক্ত ছিলেন।
নিকট অতীতে রাজনীতিতে গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি অন্যতম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর চালানো নিপীড়ন ও নির্যাতনের পেছনেও গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এক-এগারোর পটপরিবর্তনের আগে ও পরে উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া বিভিন্ন কূটনৈতিক তারবার্তায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যাপক তৎপরতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের নানা তথ্য স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
তদন্ত ও ফাঁস হওয়া নথিপত্র থেকে জানা যায়, এক-এগারোর রাজনৈতিক পটভূমি তৈরির পেছনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও অনেকাংশে দায়ী ছিল, যার নেপথ্যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দলটির বাম ঘরানার কিছু নেতা। একই সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের একটি প্রভাবশালী অংশও তৎকালীন সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। গোয়েন্দা তৎপরতার এসব কূটকৌশল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের নানা গোপন তত্পরতা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে।


























