জানাজা পড়ার এবং লাশ দাফনের অধিকার যেকোনো মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় অধিকার। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশে মানুষের এই ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা এই ধরনের অমানবিক দৃশ্য দেখতে চাই না।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লিখেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট শাসনামলে শহিদ মিনারে পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের লাশ আনতে দেওয়া হয়নি এবং সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি বিরোধী দলের অনেক নেতার জানাজাও ঢাকায় করতে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকায় রক্ষীবাহিনীর নেতা তোফায়েলের জানাজা হয়েছে এবং তাঁর নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা একে এম রহমতুল্লাহর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশও করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের মানবাধিকারের পক্ষেও তাঁরা কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও বলবেন, কারণ শত্রুর সঙ্গেই ইনসাফ করা আমাদের শিখতে হবে।
মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় বহু মানবাধিকারকর্মী নীরব ছিলেন। মানবাধিকারের প্রশ্ন এলে অতীতের সব হত্যাকাণ্ডেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে লাশের ওপর নৃত্য উল্লাস ও কবর ভাঙচুরের ঘটনা দেখা গেছে এবং জানাজা পড়তে না দেওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল। এমনকি শহিদ ওসমান হাদীর কবর উৎখাতের প্রক্রিয়াও পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, এতকিছুর পরও আমরা ফ্যাসিস্টদের পন্থী হতে পারি না; বরং ফ্যাসিবাদের বিপরীতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি সকল নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের পক্ষে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


























