ইসরায়েলের আসন্ন রাজনৈতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। ৬৬ বছর বয়সি এই সাবেক জেনারেল বর্তমানে ‘ইয়াশার’ নামের একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গঠিত ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায়ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং যুদ্ধ সমাপ্তির সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের জেরে পরবর্তীতে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি একটি পেশাদার সরকার গঠন, সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিশ্চিত এবং ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠনের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন।
সামরিক বাহিনী থেকে রাজনীতিতে আসা গাদি আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০৮ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক কৌশল নির্ধারণের সময় তার একটি বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। তিনি ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’ নামে একটি সামরিক তত্ত্বের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন, যার মূলকথা ছিল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘অনুপাতহীন শক্তি’ প্রয়োগ এবং বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা। ২০২২ সালে বেনি গান্টজের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ইউনিটি জোটের মাধ্যমে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০২৪ সালের জুনে তিনি মন্ত্রিসভা ছেড়ে আসেন। আইজেনকোটের প্রধান অভিযোগ ছিল, যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে নেতানিয়াহু সরকারের কোনো সুসংহত বা সুস্পষ্ট কৌশল নেই।
এদিকে গাজার সংঘাতের জেরে আইজেনকোটের ব্যক্তিগত জীবনেও নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধে তার ২৫ বছর বয়সি ছেলে গাল নিহত হন। একই মাসে তার এক ভাতিজাও প্রাণ হারান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজার যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় তার আরেক ভাতিজাও মারা যান। পরিবারের সদস্যদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিজ্ঞতা তাকে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে ভিন্ন মাত্রায় পরিচিত করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ছাড়ার প্রায় এক বছর পর ‘ইয়াশার’ নামক নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে আইজেনকোট এখন ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।























