‘সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতে পিছপা হবে না’— বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে তার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে ক্যাডার পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটি আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ, দৃঢ় ও আপসহীন বাস্তবায়ন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, এটি পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিতকরণ এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করার একটি সময়োপযোগী আহ্বান।
আইজিপি গত সোমবার রাজধানীর চকবাজারে পুলিশের মালিকানাধীন কমিউনিটি ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব, আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেইটা করব।’
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যদিও তারা ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি এড়িয়ে গেছে। সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. মোসলেহ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সাধারণ সম্পাদক শামীমা পারভীন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশের আইনানুগ কঠোরতাকে একদিকে নেতিবাচকভাবে দেখা এবং অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয়তাকে অন্যদিকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। অপরাধ দমনে পুলিশ যদি তার আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হয়, তবে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আইনের সীমা অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনই পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করার মূল ভিত্তি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আইন প্রয়োগে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।






















