Dhaka ০৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াট্রিস কিউলের মুখে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড এবং প্রখ্যাত মডেল বিয়াট্রিস কিউল। ১৯৯৩ সালের নভেম্বর মাসে নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাঁর ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন বলে ডেমোক্র্যাটদের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দলের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছেন।

গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সংক্রান্ত আলোড়ন সৃষ্টিকারী তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউস এই আনীত সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে শক্তভাবে অস্বীকার করেছে এবং একে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া খবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হোয়াইট হাউসের দায়িত্বশীল এক প্রাতিষ্ঠানিক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিতর্কিত অ্যাপস্টাইনসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়াদি ও তদন্ত থেকে পূর্বেই পুরোপুরি নির্দোষ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে উন্মোচিত ও প্রকাশিত এই বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনটিকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সাফল্যের ওপর ভর করে গড়ে ওঠা রিপাবলিকান পার্টির ঊর্ধ্বমুখী রাজনৈতিক গতিপথ থেকে সাধারণ আমেরিকানদের মনোযোগ ভিন্নদিকে সরানোর জন্য উগ্র ডেমোক্র্যাটদের একটি মরিয়া অপচেষ্টা’ বলে কঠোর অভিহিত করেছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক জুডিশিয়ারি কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে টানা কয়েক সপ্তাহের নিবিড় সাক্ষাৎকার পর্বে মাত্র ২৪ বছর বয়সে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের প্রথম পরিচয় ও সাক্ষাতের বিস্তারিত স্মৃতি তুলে ধরেন সাবেক মডেল বিয়াট্রিস কিউল। তিনি প্রকাশ করেন, ট্রাম্প সেই সময় তাঁকে ইউএস ভিসা এবং খ্যাতনামা নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) সরাসরি ভর্তির সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করে দেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন, ‘আমি নিজে তোমার সার্বিক দেখভাল করব’। পরবর্তীতে সেই आश्বাসনের আলোকেই ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি তাঁকা প্লাজা হোটেলের একদম ওপরের তলার কক্ষে ট্রাম্পের সাথে বিশেষ দেখা করিয়ে দিতে নিয়ে যান।

প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত হিংস্রভাবে কিউলকে পিছন থেকে জঘন্যভাবে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর ওপর জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালান; উক্ত পাশবিক প্রক্রিয়ায় তাঁর শরীরের পরিধেয় পোশাক চিরে যায় এবং দেহের একাধিক স্পর্শকাতর স্থানে রক্তপাতসহ মারাত্মক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন তৈরি হয়’। ডেমোক্র্যাটিক প্রতিবেদনে আরও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, কিউল নিজের মুখেই এই ঘটানটিকে ‘অত্যন্ত নৃশংস ও পাশবিক’ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত জঘন্য ঘটনার পরপরই ট্রাম্প তাঁকে বিছানার পাশে বসিয়ে পুনরায় আগের দেওয়া ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দ্বিতীয়বার স্মরণ করিয়ে দেন এবং বাইরে গিয়ে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘যেভাবেই হোক অনুষ্ঠান (শো) চলতেই হবে’।

এর পূর্বে বিগত ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডেইলিমেইলকে দেওয়া এক বিশেষ বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারেও বিয়াট্রিস কিউল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রথম সরাসরি শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে এনেছিলেন। তৎকালীন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি আমার ঠোঁটে এবং ঘাড়ে জোরপূর্বক চুমু খেয়েছিলেন। তিনি আমার গায়ের পোশাক টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আমার শরীরের সমস্ত স্থানে অসৎ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করছিলেন’। তবে সেই সময়ে কিউল জানিয়েছিলেন, তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে কথা বলে পুরো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন এবং নিজের শারীরিক উচ্চতার সুবিধা থাকার কারণে সে যাত্রায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

তবে বিগত প্রায় ২০ বছর আগেই কিউল তাঁর এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত বন্ধুকে এই ঘটনার কথা বিশদে জানিয়েছিলেন বলে ডেইলিমেইলের আগের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সে সময় ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বিয়াট্রিসের তোলা সমস্ত অভিযোগকে অলীক ও সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

আমেরিকান হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির জ্যেষ্ঠ প্রভাবশালী সদস্য জেমি রাসকিন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিখ্যাত অ্যাপস্টাইনের সরাসরি উপস্থিতিতে কিংবা তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় থেকে অন্তত পাঁচজন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা মারাত্মক যৌন নির্যাতনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছেন; এ ছাড়া অন্য একাধিক নারী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অ্যাপস্টাইন বা ম্যাক্সওয়েল তাদের অবৈধভাবে ট্রাম্পের কাছে পাচার করার পরিকল্পিত চক্রান্ত করেছিলেন’। তিনি জোরালোভাবে যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের নিজস্ব বিচার বিভাগ (ডিওজে) এই গুরুতর অপরাধগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে’।

অবশ্য আগামী ৩ নভেম্বরের বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ পূর্বে এমন বিস্ফোরক ও সংবেদনশীল তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশিত হলো। সংবেদনশীল এই নির্বাচনকে ঠিক সামনে রেখে একদিকে ট্রাম্পের স্পর্শকাতর অ্যাপস্টাইন ফাইলসংক্রান্ত বিতর্কিত নথিপত্র ব্যবস্থাপনা এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার কারণে হঠাৎ দেখা দেওয়া তীব্র মূল্যস্ফীতি—এই দুটি প্রধান ইস্যুতে বর্তমান রিপাবলিকান প্রার্থীরা চরম রাজনৈতিক কোণঠাসা ও প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াট্রিস কিউলের মুখে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড এবং প্রখ্যাত মডেল বিয়াট্রিস কিউল। ১৯৯৩ সালের নভেম্বর মাসে নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাঁর ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন বলে ডেমোক্র্যাটদের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দলের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছেন।

গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সংক্রান্ত আলোড়ন সৃষ্টিকারী তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউস এই আনীত সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে শক্তভাবে অস্বীকার করেছে এবং একে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া খবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হোয়াইট হাউসের দায়িত্বশীল এক প্রাতিষ্ঠানিক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিতর্কিত অ্যাপস্টাইনসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়াদি ও তদন্ত থেকে পূর্বেই পুরোপুরি নির্দোষ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে উন্মোচিত ও প্রকাশিত এই বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনটিকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সাফল্যের ওপর ভর করে গড়ে ওঠা রিপাবলিকান পার্টির ঊর্ধ্বমুখী রাজনৈতিক গতিপথ থেকে সাধারণ আমেরিকানদের মনোযোগ ভিন্নদিকে সরানোর জন্য উগ্র ডেমোক্র্যাটদের একটি মরিয়া অপচেষ্টা’ বলে কঠোর অভিহিত করেছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক জুডিশিয়ারি কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে টানা কয়েক সপ্তাহের নিবিড় সাক্ষাৎকার পর্বে মাত্র ২৪ বছর বয়সে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের প্রথম পরিচয় ও সাক্ষাতের বিস্তারিত স্মৃতি তুলে ধরেন সাবেক মডেল বিয়াট্রিস কিউল। তিনি প্রকাশ করেন, ট্রাম্প সেই সময় তাঁকে ইউএস ভিসা এবং খ্যাতনামা নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) সরাসরি ভর্তির সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করে দেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন, ‘আমি নিজে তোমার সার্বিক দেখভাল করব’। পরবর্তীতে সেই आश्বাসনের আলোকেই ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি তাঁকা প্লাজা হোটেলের একদম ওপরের তলার কক্ষে ট্রাম্পের সাথে বিশেষ দেখা করিয়ে দিতে নিয়ে যান।

প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত হিংস্রভাবে কিউলকে পিছন থেকে জঘন্যভাবে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর ওপর জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালান; উক্ত পাশবিক প্রক্রিয়ায় তাঁর শরীরের পরিধেয় পোশাক চিরে যায় এবং দেহের একাধিক স্পর্শকাতর স্থানে রক্তপাতসহ মারাত্মক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন তৈরি হয়’। ডেমোক্র্যাটিক প্রতিবেদনে আরও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, কিউল নিজের মুখেই এই ঘটানটিকে ‘অত্যন্ত নৃশংস ও পাশবিক’ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত জঘন্য ঘটনার পরপরই ট্রাম্প তাঁকে বিছানার পাশে বসিয়ে পুনরায় আগের দেওয়া ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দ্বিতীয়বার স্মরণ করিয়ে দেন এবং বাইরে গিয়ে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘যেভাবেই হোক অনুষ্ঠান (শো) চলতেই হবে’।

এর পূর্বে বিগত ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডেইলিমেইলকে দেওয়া এক বিশেষ বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারেও বিয়াট্রিস কিউল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রথম সরাসরি শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে এনেছিলেন। তৎকালীন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি আমার ঠোঁটে এবং ঘাড়ে জোরপূর্বক চুমু খেয়েছিলেন। তিনি আমার গায়ের পোশাক টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আমার শরীরের সমস্ত স্থানে অসৎ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করছিলেন’। তবে সেই সময়ে কিউল জানিয়েছিলেন, তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে কথা বলে পুরো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন এবং নিজের শারীরিক উচ্চতার সুবিধা থাকার কারণে সে যাত্রায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

তবে বিগত প্রায় ২০ বছর আগেই কিউল তাঁর এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত বন্ধুকে এই ঘটনার কথা বিশদে জানিয়েছিলেন বলে ডেইলিমেইলের আগের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সে সময় ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বিয়াট্রিসের তোলা সমস্ত অভিযোগকে অলীক ও সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

আমেরিকান হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির জ্যেষ্ঠ প্রভাবশালী সদস্য জেমি রাসকিন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিখ্যাত অ্যাপস্টাইনের সরাসরি উপস্থিতিতে কিংবা তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় থেকে অন্তত পাঁচজন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা মারাত্মক যৌন নির্যাতনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছেন; এ ছাড়া অন্য একাধিক নারী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অ্যাপস্টাইন বা ম্যাক্সওয়েল তাদের অবৈধভাবে ট্রাম্পের কাছে পাচার করার পরিকল্পিত চক্রান্ত করেছিলেন’। তিনি জোরালোভাবে যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের নিজস্ব বিচার বিভাগ (ডিওজে) এই গুরুতর অপরাধগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে’।

অবশ্য আগামী ৩ নভেম্বরের বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ পূর্বে এমন বিস্ফোরক ও সংবেদনশীল তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশিত হলো। সংবেদনশীল এই নির্বাচনকে ঠিক সামনে রেখে একদিকে ট্রাম্পের স্পর্শকাতর অ্যাপস্টাইন ফাইলসংক্রান্ত বিতর্কিত নথিপত্র ব্যবস্থাপনা এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার কারণে হঠাৎ দেখা দেওয়া তীব্র মূল্যস্ফীতি—এই দুটি প্রধান ইস্যুতে বর্তমান রিপাবলিকান প্রার্থীরা চরম রাজনৈতিক কোণঠাসা ও প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছেন।