Dhaka ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

আইজেনকট বনাম নেতানিয়াহু: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে চোখ বিশ্বজুড়ে

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪০:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ লড়াইয়ের বিপরীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে ইসরায়েলে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেসেট (পার্লামেন্ট) নির্বাচন। ক্ষমতা দখলের এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। তবে শেষ মুহূর্তের প্রকাশিত জাতীয় জনমত জরিপগুলোতে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের চূড়ান্ত আসন সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারায় ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পরও তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের একক শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটতে পারে, তেমনি অন্যদিকে কোনো পক্ষই নেসেটে প্রয়োজনীয় একক আসন না পেলে দেশটির ভবিষ্যৎ সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এমন জটিল সমীকরণে ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সিদ্ধান্ত ও সমর্থন শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা এবং এর পর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দীর্ঘ সামরিক অভিযান, সেই সাথে পার্শ্ববর্তী লেবানন ও ইরানের সাথে তীব্র সশস্ত্র সংঘাতের পর এটিই দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এই ভোটের মাধ্যমে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এর নতুন আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হবেন। সেখানে সরকার গঠন করার জন্য যেকোনো পক্ষকে অন্তত ৬১ জন নেসেট সদস্যের সমর্থনের সুনির্দিষ্ট সীমা পার হতে হবে।

চলতি নির্বাচনে ভোট প্রদান করার যোগ্য মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ১২ লাখ হচ্ছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিক। সারা দেশজুড়ে তৈরি করা মোট ১২ হাজার ১৮টি নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণের সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় আজ সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে একটানা রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

জনমত জরিপে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আইজেনকট

ইসরায়েলের প্রধান তিনটি শীর্ষ সম্প্রচারমাধ্যমের চূড়ান্ত বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি দল ‘লিকুদ পার্টি’র চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

জরিপের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আইজেনকটের ইয়াশার দল ২২ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ১৯ থেকে ২১টি আসন পেতে পারে। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালী বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন জোট ‘বিইয়াচাদ’ (একসঙ্গে) পেতে পারে আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫টি আসন।

অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বাকি দলগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক জেনারেল ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন ‘ডেমোক্র্যাটস’ এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের ‘ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি’।

সংকলিত জরিপের সার্বিক তথ্য বলছে, নেতানিয়াহুপন্থি কট্টর ডানপন্থি ও গোঁড়া ধর্মীয় দলগুলোর জোট সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫০টি আসন পেতে পারে। বিপরীত পক্ষে মূল বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য আসন সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৫২ থেকে ৫৬টিতে। আর ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যৌথভাবে পেতে পারে ১৪ থেকে ১৬টি আসন।

উক্ত গানিতিক হিসাব অনুযায়ী স্পষ্ট যে, কোনো পক্ষই এককভাবে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সুনির্দিষ্ট ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করার মতো সুদৃঢ় অবস্থানে নেই।

ইসরায়েলের বিদ্যমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটাররা কোনো ব্যক্তি প্রার্থীকে সরাসরি ভোট না দিয়ে রাজনৈতিক প্রতীকে দলকে ভোট প্রদান করেন। মোট বৈধ ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রাপ্তির সর্বনিম্ন মানদণ্ড পূরণ করলে একটি দল পার্লামেন্টে অনুপাত অনুযায়ী আসন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো একক রাজনৈতিক দল নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সমর্থ হয়নি। ফলে ভোট শেষ হওয়ার পরেই মূলত জোট গঠনের জটিল দরকষাকষি শুরু হয়।

পরিবর্তন ও জবাবদিহির অঙ্গীকার আইজেনকটের

৬৬ বছর বয়সে পা দেওয়া সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট বিগত ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণের পর তিনি জরুরি ভিত্তিতে গঠিত নেতানিয়াহুর বিশেষ যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনাসংক্রান্ত চরম বিশৃঙ্খলা ও স্পষ্ট রাজনৈতিক কাঠামোর অভাবের কথা তুলে ধরে তিনি পদত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় তাঁর নিজ সন্তান নিহত হন।

আইজেনকটের প্রচারণার মূল বিষয়ের মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দেশে স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা খাতের ভয়াবহ ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন সরকারি তদন্ত কমিশন গঠন করা এবং অতি-কট্টর অর্থোডক্স ধর্মীয় পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগদান থেকে অব্যাহতির রেওয়াজ বন্ধ করার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

তবে নেতানিয়াহুর বিকল্প রাজনীতিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও জাতীয় নিরাপত্তার কয়েকটি সংবেদনশীল ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছাকাছি। স্বাধীন ও পূর্ণ সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেন আইজেনকট। তাঁর অভিমত হলো—গাজায় হামাসের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সমূলে অবসান ঘটাতে হবে।

নেতানিয়াহুর সামনে কঠিন সব চ্যালেঞ্জ

৭৭ বছর বয়সে পা রাখা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তিন ভিন্ন দফায় দীর্ঘ ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘জাতীয় নিরাপত্তা’। মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সামরিক নীতির কোনো বিকল্প নেই বলে ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন তিনি।

তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের রক্তক্ষয়ী আক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং পরবর্তী সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা ভুলের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি রয়েছেন নেতানিয়াহু। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার এমন বিপর্যয় তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের তীব্র বিরোধিতা করায় নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

বর্তমানে নিজ দেশে গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিচারিক কার্যক্রম চলমান, যদিও তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন। এ ছাড়া গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযানে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করেছে।

আসন্ন সরকার গঠনে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের তালিকায় রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নেতৃত্বাধীন অতি-কট্টর ডানপন্থি দলগুলো। তাদের সাথে আরও রয়েছে গোঁড়া ধর্মীয় দল ‘শাস’ এবং ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’।

উগ্রপন্থি বেন-গভির ও স্মোট্রিচ অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে প্রকাশ্যে সওয়াল করেন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের তীব্র বিরোধিতা করেন। অপরদিকে অতি-কট্টর ধর্মীয় দলগুলো তাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীতে যোগদান থেকে চিরতরে অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছে, যা বর্তমান সৈন্যসংকটে থাকা ইসরায়েলে চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে ফিলিস্তিনি দলগুলো

এবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘রা’আম’ দল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে মূল অনুঘটক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। জরিপ অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট প্রায় ৯টি আসন এবং রা’আম ৫ থেকে ৭টি আসন অর্জন করতে পারে।

আইজেনকটের নেতৃত্বে আগামীতে সরকার গঠন করতে হলে এই ফিলিস্তিনি দলগুলোর অন্তত একটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন আবশ্যিক হয়ে উঠতে পারে। সরাসরি সরকারে অংশগ্রহণ কিংবা বাইরে থেকে সমর্থনের মাধ্যমেও এই সমঝোতা হতে পারে।

তবে এ ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার পথে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থনের ওপর ভর করে গঠিত কোনো সরকারে তিনি যুক্ত হবেন না। বিরোধী শিবিরের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দিতে দ্বিধাবোধ করছেন।

অন্যদিকে, আগামী সরকার পরিচালনায় ফিলিস্তিনি দলগুলোর প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে—এমন জুজু দেখিয়ে ডানপন্থি রক্ষণশীল ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার জোর চেষ্টা চালিয়েছেন নেতানিয়াহু।

সরকার গঠনের সম্ভাব্য নানা সমীকরণ

নির্বাচনী ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিকল্প পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পেয়ে গেলে অথবা অন্য নিরপেক্ষ আইনপ্রণেতাদের সমর্থন আদায় করতে পারলে তিনি টানা ফের সরকার গঠন করতে পারেন।

অপরদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বে বিকল্প সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন, ভিন্ন শিবিরের আইনপ্রণেতাদের ভেড়ান অথবা আদর্শগতভাবে বিপরীতমুখী বিরোধী নেতাদের এক ছাতার নিচে আনার মতো জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়বে।

এ ছাড়া লিকুদ ও প্রধান বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের ক্ষীণ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও আইজেনকট এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ না করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।

যদি শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই একক বা যৌথ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তবে দিনের পর দিন ধরে অচলাবস্থা ও জোট গঠনের জটিল দরকষাকষি চলতে পারে। সেই ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়িত্বে বহাল থেকে যাবেন এবং দেশটিকে আবারও পুনর্নির্বাচনের দিকে হেঁটে যেতে হতে পারে।

এর পাশাপাশি ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের ন্যূনতম সীমার একদম কাছাকাছি থাকা ছোট দলগুলোর প্রাপ্ত ফলাফলও বড় প্রভাব ফেলবে। কোনো দল এই সীমা পার হতে ব্যর্থ হলে তারা একটি আসনও পাবে না, যার ফলে প্রধান দুই জোটের ক্ষমতার ভারসাম্য নিমেষেই বদলে যেতে পারে।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বুথফেরত এক্সিট পোল প্রকাশিত হবে। এরপর গভীর রাত থেকে প্রাথমিক সরকারি ফল আসতে শুরু করবে। তবে সেনাবাহিনী, বিভিন্ন হাসপাতাল ও কারাগারের বিশেষ ভোট গণনা সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার সরকারি আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ফলাফলের পরও নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও সমঝোতা চুক্তি হতে আরও বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আইজেনকট বনাম নেতানিয়াহু: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে চোখ বিশ্বজুড়ে

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪০:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ লড়াইয়ের বিপরীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে ইসরায়েলে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেসেট (পার্লামেন্ট) নির্বাচন। ক্ষমতা দখলের এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। তবে শেষ মুহূর্তের প্রকাশিত জাতীয় জনমত জরিপগুলোতে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের চূড়ান্ত আসন সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারায় ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পরও তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের একক শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটতে পারে, তেমনি অন্যদিকে কোনো পক্ষই নেসেটে প্রয়োজনীয় একক আসন না পেলে দেশটির ভবিষ্যৎ সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এমন জটিল সমীকরণে ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সিদ্ধান্ত ও সমর্থন শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা এবং এর পর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দীর্ঘ সামরিক অভিযান, সেই সাথে পার্শ্ববর্তী লেবানন ও ইরানের সাথে তীব্র সশস্ত্র সংঘাতের পর এটিই দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এই ভোটের মাধ্যমে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এর নতুন আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হবেন। সেখানে সরকার গঠন করার জন্য যেকোনো পক্ষকে অন্তত ৬১ জন নেসেট সদস্যের সমর্থনের সুনির্দিষ্ট সীমা পার হতে হবে।

চলতি নির্বাচনে ভোট প্রদান করার যোগ্য মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ১২ লাখ হচ্ছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিক। সারা দেশজুড়ে তৈরি করা মোট ১২ হাজার ১৮টি নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণের সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় আজ সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে একটানা রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

জনমত জরিপে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আইজেনকট

ইসরায়েলের প্রধান তিনটি শীর্ষ সম্প্রচারমাধ্যমের চূড়ান্ত বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি দল ‘লিকুদ পার্টি’র চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

জরিপের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আইজেনকটের ইয়াশার দল ২২ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ১৯ থেকে ২১টি আসন পেতে পারে। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালী বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন জোট ‘বিইয়াচাদ’ (একসঙ্গে) পেতে পারে আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫টি আসন।

অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বাকি দলগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক জেনারেল ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন ‘ডেমোক্র্যাটস’ এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের ‘ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি’।

সংকলিত জরিপের সার্বিক তথ্য বলছে, নেতানিয়াহুপন্থি কট্টর ডানপন্থি ও গোঁড়া ধর্মীয় দলগুলোর জোট সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫০টি আসন পেতে পারে। বিপরীত পক্ষে মূল বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য আসন সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৫২ থেকে ৫৬টিতে। আর ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যৌথভাবে পেতে পারে ১৪ থেকে ১৬টি আসন।

উক্ত গানিতিক হিসাব অনুযায়ী স্পষ্ট যে, কোনো পক্ষই এককভাবে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সুনির্দিষ্ট ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করার মতো সুদৃঢ় অবস্থানে নেই।

ইসরায়েলের বিদ্যমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটাররা কোনো ব্যক্তি প্রার্থীকে সরাসরি ভোট না দিয়ে রাজনৈতিক প্রতীকে দলকে ভোট প্রদান করেন। মোট বৈধ ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রাপ্তির সর্বনিম্ন মানদণ্ড পূরণ করলে একটি দল পার্লামেন্টে অনুপাত অনুযায়ী আসন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো একক রাজনৈতিক দল নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সমর্থ হয়নি। ফলে ভোট শেষ হওয়ার পরেই মূলত জোট গঠনের জটিল দরকষাকষি শুরু হয়।

পরিবর্তন ও জবাবদিহির অঙ্গীকার আইজেনকটের

৬৬ বছর বয়সে পা দেওয়া সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট বিগত ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণের পর তিনি জরুরি ভিত্তিতে গঠিত নেতানিয়াহুর বিশেষ যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনাসংক্রান্ত চরম বিশৃঙ্খলা ও স্পষ্ট রাজনৈতিক কাঠামোর অভাবের কথা তুলে ধরে তিনি পদত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় তাঁর নিজ সন্তান নিহত হন।

আইজেনকটের প্রচারণার মূল বিষয়ের মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দেশে স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা খাতের ভয়াবহ ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন সরকারি তদন্ত কমিশন গঠন করা এবং অতি-কট্টর অর্থোডক্স ধর্মীয় পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগদান থেকে অব্যাহতির রেওয়াজ বন্ধ করার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

তবে নেতানিয়াহুর বিকল্প রাজনীতিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও জাতীয় নিরাপত্তার কয়েকটি সংবেদনশীল ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছাকাছি। স্বাধীন ও পূর্ণ সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেন আইজেনকট। তাঁর অভিমত হলো—গাজায় হামাসের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সমূলে অবসান ঘটাতে হবে।

নেতানিয়াহুর সামনে কঠিন সব চ্যালেঞ্জ

৭৭ বছর বয়সে পা রাখা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তিন ভিন্ন দফায় দীর্ঘ ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘জাতীয় নিরাপত্তা’। মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সামরিক নীতির কোনো বিকল্প নেই বলে ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন তিনি।

তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের রক্তক্ষয়ী আক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং পরবর্তী সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা ভুলের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি রয়েছেন নেতানিয়াহু। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার এমন বিপর্যয় তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের তীব্র বিরোধিতা করায় নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

বর্তমানে নিজ দেশে গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিচারিক কার্যক্রম চলমান, যদিও তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন। এ ছাড়া গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযানে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করেছে।

আসন্ন সরকার গঠনে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের তালিকায় রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নেতৃত্বাধীন অতি-কট্টর ডানপন্থি দলগুলো। তাদের সাথে আরও রয়েছে গোঁড়া ধর্মীয় দল ‘শাস’ এবং ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’।

উগ্রপন্থি বেন-গভির ও স্মোট্রিচ অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে প্রকাশ্যে সওয়াল করেন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের তীব্র বিরোধিতা করেন। অপরদিকে অতি-কট্টর ধর্মীয় দলগুলো তাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীতে যোগদান থেকে চিরতরে অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছে, যা বর্তমান সৈন্যসংকটে থাকা ইসরায়েলে চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে ফিলিস্তিনি দলগুলো

এবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘রা’আম’ দল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে মূল অনুঘটক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। জরিপ অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট প্রায় ৯টি আসন এবং রা’আম ৫ থেকে ৭টি আসন অর্জন করতে পারে।

আইজেনকটের নেতৃত্বে আগামীতে সরকার গঠন করতে হলে এই ফিলিস্তিনি দলগুলোর অন্তত একটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন আবশ্যিক হয়ে উঠতে পারে। সরাসরি সরকারে অংশগ্রহণ কিংবা বাইরে থেকে সমর্থনের মাধ্যমেও এই সমঝোতা হতে পারে।

তবে এ ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার পথে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থনের ওপর ভর করে গঠিত কোনো সরকারে তিনি যুক্ত হবেন না। বিরোধী শিবিরের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দিতে দ্বিধাবোধ করছেন।

অন্যদিকে, আগামী সরকার পরিচালনায় ফিলিস্তিনি দলগুলোর প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে—এমন জুজু দেখিয়ে ডানপন্থি রক্ষণশীল ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার জোর চেষ্টা চালিয়েছেন নেতানিয়াহু।

সরকার গঠনের সম্ভাব্য নানা সমীকরণ

নির্বাচনী ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিকল্প পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পেয়ে গেলে অথবা অন্য নিরপেক্ষ আইনপ্রণেতাদের সমর্থন আদায় করতে পারলে তিনি টানা ফের সরকার গঠন করতে পারেন।

অপরদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বে বিকল্প সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন, ভিন্ন শিবিরের আইনপ্রণেতাদের ভেড়ান অথবা আদর্শগতভাবে বিপরীতমুখী বিরোধী নেতাদের এক ছাতার নিচে আনার মতো জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়বে।

এ ছাড়া লিকুদ ও প্রধান বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের ক্ষীণ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও আইজেনকট এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ না করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।

যদি শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই একক বা যৌথ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তবে দিনের পর দিন ধরে অচলাবস্থা ও জোট গঠনের জটিল দরকষাকষি চলতে পারে। সেই ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়িত্বে বহাল থেকে যাবেন এবং দেশটিকে আবারও পুনর্নির্বাচনের দিকে হেঁটে যেতে হতে পারে।

এর পাশাপাশি ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের ন্যূনতম সীমার একদম কাছাকাছি থাকা ছোট দলগুলোর প্রাপ্ত ফলাফলও বড় প্রভাব ফেলবে। কোনো দল এই সীমা পার হতে ব্যর্থ হলে তারা একটি আসনও পাবে না, যার ফলে প্রধান দুই জোটের ক্ষমতার ভারসাম্য নিমেষেই বদলে যেতে পারে।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বুথফেরত এক্সিট পোল প্রকাশিত হবে। এরপর গভীর রাত থেকে প্রাথমিক সরকারি ফল আসতে শুরু করবে। তবে সেনাবাহিনী, বিভিন্ন হাসপাতাল ও কারাগারের বিশেষ ভোট গণনা সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার সরকারি আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ফলাফলের পরও নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও সমঝোতা চুক্তি হতে আরও বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।