ব্রাজিলের বহুল আলোচিত ও নাটকীয় প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার (রানঅফ) ভোটে সুনির্দিষ্ট জয় নিশ্চিত করে পুনরায় দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও অভিজ্ঞ বামপন্থী শীর্ষ নেতা লুই ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। চরম হাড্ডাহাড্ডি ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে বিরোধী দলের প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় নিজের অবস্থান শক্ত করলেন। বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরা ও ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টরাল কোর্টের (টিএসই) বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ব্রাজিলীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ দাপ্তরিক হিসাব ও প্রাথমিক ফলাফলের তথ্যানুসারে, শতভাগ ব্যালট গণনা শেষে বিজয়ী লুলা দ্য সিলভা লাভ করেছেন ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পেয়ে কিছুটা পেছনে পড়েছেন। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রদত্ত ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম হওয়ায় গণনার একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে চরম তীব্র উত্তেজনা ও গভীর অনিশ্চয়তা বজায় ছিল।
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়া ফ্লাভিও বলসোনারো মূলত ব্রাজিলের সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ সন্তান। উল্লেখ্য, এর আগের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে জইর বলসোনারোকে সরাসরি ভোটে হারিয়ে প্রথম দফায় বিপুল সমর্থনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন লুলা দ্য সিলভা। কিন্তু পরবর্তীতে সেই নির্বাচনের সার্বিক ফলাফল প্রকাশ ও ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে জইর বলসোনারো চরম রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জটিল আইনি মোকদ্দমার মুখোমুখি হন। ফলে এবার বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষায় তাঁর পরিবর্তে নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন ছেলে ফ্লাভিও।
ব্রাজিলের বর্তমান সংবিধানের কঠোর নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফার সাধারণ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হলে নির্বাচনটি দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ সরাসরি রানঅফ রাউন্ডে গড়ায়। সেই বিধি মোতাবেক, প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে মুখোমুখি দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় জানা গেছে, নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে ফ্লাভিও বলসোনারো সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত রানঅফ রাউন্ডে তাকে পেছনে ফেলে জয়ের হাসি হাসেন লুলা দ্য সিলভা। এর ফলে ব্রাজিলের জাতীয় নির্বাচনে প্রথম দফার আংশিক ফলাফল যে চূড়ান্ত বিজয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেয় না, তা এই নির্বাচনের ঐতিহাসিক ফলাফলে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এই নির্বাচনকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকেরা। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে এই তীব্র সমানে-সমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত ব্রাজিলের বর্তমান জাতীয় রাজনীতির গভীর মেরুকরণ এবং দেশের সাধারণ ভোটারদের মধ্যকার স্পষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের চিত্রটিকেই নতুন করে ফুটিয়ে তুলেছে।























