Dhaka ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি কাটিয়ে পুনরায় চালু হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

সাইবার আক্রমণের তীব্র নিরাপত্তাঝুঁকি এড়ানোর উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি পুনরায় সফলভাবে সচল করা হয়েছে। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে এই ওয়েবসাইটের অনলাইন সেবাগুলো পুনরায় স্বাভাবিকভাবে সচল হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মানিত নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে জরুরি ভিত্তিতে সম্ভাব্য সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি এড়ানোর সতর্কতামূলক পূর্বসতর্কতা হিসেবে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মূলত বহুল ব্যবহৃত পিএইচপি (PHP) প্রোগ্রামিং ভাষার সফটওয়্যার সংস্করণে উদ্ভূত বিশেষ নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে সম্ভাব্য বড় ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলা করতেই এই জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।

সে সময় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, যেকোনো জরুরি সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি ও সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতেই এই সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইসিটি ও সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কারিগরি সূত্র জানায় যে, ওয়েবসাইটের ভেতরের নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে তা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য নিরলস কাজ চালানো হচ্ছিল। সার্বিক ঝুঁকি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই ওয়েবসাইটটি জন সাধারণ ও ব্যাংকগুলোর ব্যবহারের জন্য আবার খুলে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার কোডিংয়ে দুটি অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি বা ভালনারেবিলিটি ধরা পড়ায় বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বড় ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছিল। মূলত এই ধরনের ত্রুটিগুলোর সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে সার্ভারে অননুমোদিত ক্ষতিকর নির্দেশনা বা কোড কার্যকর করতে সক্ষম হয়। এর ফলে সার্ভারে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, সংবেদনশীল ডাটাবেজ এবং দেশের অর্থনীতির গোপনীয় তথ্য চরম সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকই নয়, বরং পিএইচপি প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি দেশের আরও কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও সতর্কতামূলক ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে পিএইচপির এই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতকারীরা পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল সাইটে কোনো ধরনের সফল সাইবার হামলা চালাতে পেরেছিল কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিএইচপি হলো বিশ্বজুড়ে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা। সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম, করপোরেট ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা সফলভাবে পরিচালনায় এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে, কেবল পিএইচপি ব্যবহার করার কারণেই কোনো ওয়েবসাইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে না; বরং ব্যবহারকৃত নির্দিষ্ট সংস্করণ (Version), নিয়মিত নিরাপত্তা আপডেট বা প্যাচ ইনস্টল করা এবং মূল সার্ভারের সার্বিক সুরক্ষাব্যবস্থার ওপরই মূলত ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি কাটিয়ে পুনরায় চালু হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার আক্রমণের তীব্র নিরাপত্তাঝুঁকি এড়ানোর উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি পুনরায় সফলভাবে সচল করা হয়েছে। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে এই ওয়েবসাইটের অনলাইন সেবাগুলো পুনরায় স্বাভাবিকভাবে সচল হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মানিত নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে জরুরি ভিত্তিতে সম্ভাব্য সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি এড়ানোর সতর্কতামূলক পূর্বসতর্কতা হিসেবে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মূলত বহুল ব্যবহৃত পিএইচপি (PHP) প্রোগ্রামিং ভাষার সফটওয়্যার সংস্করণে উদ্ভূত বিশেষ নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে সম্ভাব্য বড় ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলা করতেই এই জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।

সে সময় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, যেকোনো জরুরি সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি ও সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতেই এই সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইসিটি ও সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কারিগরি সূত্র জানায় যে, ওয়েবসাইটের ভেতরের নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে তা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য নিরলস কাজ চালানো হচ্ছিল। সার্বিক ঝুঁকি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই ওয়েবসাইটটি জন সাধারণ ও ব্যাংকগুলোর ব্যবহারের জন্য আবার খুলে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার কোডিংয়ে দুটি অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি বা ভালনারেবিলিটি ধরা পড়ায় বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বড় ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছিল। মূলত এই ধরনের ত্রুটিগুলোর সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে সার্ভারে অননুমোদিত ক্ষতিকর নির্দেশনা বা কোড কার্যকর করতে সক্ষম হয়। এর ফলে সার্ভারে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, সংবেদনশীল ডাটাবেজ এবং দেশের অর্থনীতির গোপনীয় তথ্য চরম সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকই নয়, বরং পিএইচপি প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি দেশের আরও কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও সতর্কতামূলক ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে পিএইচপির এই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতকারীরা পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল সাইটে কোনো ধরনের সফল সাইবার হামলা চালাতে পেরেছিল কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিএইচপি হলো বিশ্বজুড়ে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা। সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম, করপোরেট ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা সফলভাবে পরিচালনায় এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে, কেবল পিএইচপি ব্যবহার করার কারণেই কোনো ওয়েবসাইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে না; বরং ব্যবহারকৃত নির্দিষ্ট সংস্করণ (Version), নিয়মিত নিরাপত্তা আপডেট বা প্যাচ ইনস্টল করা এবং মূল সার্ভারের সার্বিক সুরক্ষাব্যবস্থার ওপরই মূলত ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।