যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণের সাথে প্রতারণা করেছিল, তারা চব্বিশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও একই কায়দায় ধোঁকা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ঢাকায় সদ্য নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চব্বিশের কথা মুখে বলা রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপস্থিতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মুখে এক কথা বললেও কর্মে তার উল্টো প্রতিফলন ঘটিয়ে আবারও জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারচক্র সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করে দেশের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। ভ্রান্ত রাজনীতিকদের এই অপতৎপরতা রুখতে দেশবাসীকে সর্বাবস্থায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষি ও কৃষকদের কল্যাণে সরকারের নানামুখী যুগান্তকারী পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরই দেশের প্রায় ৪০ লাখ কৃষককে ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তাঁরা সার-বীজ সহায়তা, সহজে ব্যাংকঋণ, বীমা সুবিধা এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত আগাম বার্তা পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি আখচাষিদের জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে তিনি ল্যাপটপের বাটনে ক্লিক করে সরাসরি ৩৯ হাজার ৯৭০ জন চাষির ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ পৌঁছে দেন। কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গ্রামীণ জনপদের চিকিৎসাসেবা ও নারী শিক্ষার প্রসারে বড় ধরনের ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যমান ৫০টি শয্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করা হবে, যেখানে মা-বোন ও শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের সুযোগ রাখা হবে। এছাড়া দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নারীদের উচ্চশিক্ষাকে উৎসাহিত করতে অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়াশোনা এবং ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।






















