জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডাটাবেজের গোপনীয়তা, সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সার্ভারের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য কারো সাথে শেয়ার করা হলে কিংবা এর সুরক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা ও অবহেলা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরাসরি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে কঠিন শাস্তির আওতায় আনার চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গোপনীয় লগইন তথ্য অসদুপায়ে বাইরের অসাদুলোকের হাতে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এই কঠোর প্রশাসনিক বার্তার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব গোপন অনুসন্ধানে এনআইডি সংশোধনী সার্ভারের অতি স্পর্শকাতর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সাধারণ কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানে উন্মুক্তভাবে পাওয়া যাওয়ার মতো নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে আসে। রাষ্ট্রীয় তথ্যের এমন ভয়াবহ ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই অত্যন্ত জোরালো আইনি অবস্থান নেয় ইসি।
সংস্থার নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, নতুন কার্ড ইস্যু কিংবা নাগরিকদের তথ্য পরিবর্তনের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত কোনো ধরনের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্যের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই শেয়ার বা হস্তান্তর করা যাবে না। যদি এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটে বা সার্ভারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে ব্যক্তিগতভাবে এর পূর্ণ দায় বহন করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর পাশাপাশি, সাধারণ নাগরিকদের এনআইডি সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ, নিরাপদ ও দ্রুততর করতে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা এবং ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (SOP) পুনর্বিবেচনার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেবা প্রদান কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও সেবামুখী করার উদ্দেশ্যে বিদ্যমান এসওপি পরিবর্তন ও পরিমার্জনের নতুন প্রস্তাব দ্রুত উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেছে সংস্থাটি।






















