Dhaka ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:২১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম অচলাবস্থা ও প্রশাসনিক সংকট এখনো দূর হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির সমস্ত ক্লাস, পরীক্ষা এবং স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক ক্রিয়াকলাপ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এই উদ্ভূত ও জটিল পরিস্থিতির আশু নিরসন এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কিংবা পরামর্শক কমিটি গঠনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ আহ্বান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল রবিবার (১৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে এই বিশেষ সুপারিশ চাওয়া হয়। চিঠিতে চুয়েটের বিদ্যমান সংকট দূর করতে ইউজিসির সদস্য পর্যায়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত বা পর্যালোচনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্র প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা দ্রুততম সময়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসের চলমান সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি বা বিশেষজ্ঞ পরামর্শক দল গঠনের সুপারিশ পাঠানোর একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অনলাইন বা ভার্চ্যুয়ালি আয়োজিত উক্ত জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ সিন্ডিকেটের মোট ১৫ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ৬ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তবে চুয়েটের কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি উক্ত সভায় যোগ দেননি। এমনকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক প্রতিনিধিও এই সিন্ডিকেট সভা বর্জন করে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

সংকটের পটভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। গত ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে আকস্মিকভাবে দায়িত্ব ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে তাঁর শূন্য পদে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে স্থলাভিষিক্ত ও নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে দায়িত্বচ্যুত সাবেক উপাচার্যকে সসম্মানে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিনই গর্জে ওঠেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক দেন এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে শিক্ষকদের একাংশ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

সুদীর্ঘ এই অচলাবস্থার কারণে মারাত্মক শিক্ষাঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ছয়টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন পরীক্ষার সময়সূচি নিয়েও ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টানা ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে মারাত্মক সেশনজটের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হলে পুরো ক্যাম্পাস আরও জনমানবহীন ও ফাঁকা হয়ে পড়ে।

চলমান এই উত্তাল আন্দোলনের মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং তালা ভেঙে নিজের প্রশাসনিক কার্যালয়ে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে আন্দোলনরত ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁকে নিজ কার্যালয়ে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর অসুস্থ বোধ করায় তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এদিকে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, অপসারণকৃত অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে স্ব পদে বহাল করার সুনির্দিষ্ট সরকারি ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই সর্বাত্মক আন্দোলন ও শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:২১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম অচলাবস্থা ও প্রশাসনিক সংকট এখনো দূর হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির সমস্ত ক্লাস, পরীক্ষা এবং স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক ক্রিয়াকলাপ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এই উদ্ভূত ও জটিল পরিস্থিতির আশু নিরসন এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কিংবা পরামর্শক কমিটি গঠনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ আহ্বান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল রবিবার (১৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে এই বিশেষ সুপারিশ চাওয়া হয়। চিঠিতে চুয়েটের বিদ্যমান সংকট দূর করতে ইউজিসির সদস্য পর্যায়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত বা পর্যালোচনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্র প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা দ্রুততম সময়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসের চলমান সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি বা বিশেষজ্ঞ পরামর্শক দল গঠনের সুপারিশ পাঠানোর একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অনলাইন বা ভার্চ্যুয়ালি আয়োজিত উক্ত জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ সিন্ডিকেটের মোট ১৫ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ৬ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তবে চুয়েটের কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি উক্ত সভায় যোগ দেননি। এমনকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক প্রতিনিধিও এই সিন্ডিকেট সভা বর্জন করে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

সংকটের পটভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। গত ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে আকস্মিকভাবে দায়িত্ব ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে তাঁর শূন্য পদে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে স্থলাভিষিক্ত ও নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে দায়িত্বচ্যুত সাবেক উপাচার্যকে সসম্মানে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিনই গর্জে ওঠেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক দেন এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে শিক্ষকদের একাংশ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

সুদীর্ঘ এই অচলাবস্থার কারণে মারাত্মক শিক্ষাঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ছয়টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন পরীক্ষার সময়সূচি নিয়েও ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টানা ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে মারাত্মক সেশনজটের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হলে পুরো ক্যাম্পাস আরও জনমানবহীন ও ফাঁকা হয়ে পড়ে।

চলমান এই উত্তাল আন্দোলনের মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং তালা ভেঙে নিজের প্রশাসনিক কার্যালয়ে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে আন্দোলনরত ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁকে নিজ কার্যালয়ে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর অসুস্থ বোধ করায় তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এদিকে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, অপসারণকৃত অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে স্ব পদে বহাল করার সুনির্দিষ্ট সরকারি ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই সর্বাত্মক আন্দোলন ও শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।