দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং স্বর্ণ বাণিজ্যের লাইসেন্স প্রদান ও তা নবায়নসংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মকানুন ও বিধিবিধানকে এক ছাতার নিচে এনে একটি সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়া, দৈনন্দিন লেনদেন কাঠামো, আমদানি-রপ্তানি পদ্ধতি, মানি লন্ডারিং বা অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং কেন্দ্রীয় তদারকিসহ বৈদেশিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশদ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এই বিশেষ সমন্বিত সার্কুলারে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক, মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান, লিমিটেড মানি চেঞ্জার, নিবন্ধিত অনুমোদিত স্বর্ণ ডিলার (এজিডি) এবং স্বর্ণ আকরিক ও ডোরে আকরিক আমদানিকারকদের লাইসেন্সপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় সংবিধিবদ্ধ বিধিবিধান অন্তভুক্ত করা হয়েছে।
সার্কুলার জারির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি বজায় রাখতে বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে জারি করা সার্কুলার, নির্দেশিকা ও বিধিবিধানকে একত্র করে এই হালনাগাদ সার্কুলারটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি নিয়মকানুন ও আইনি বাধ্যবাধকতা সহজে জানা এবং তা সঠিকভাবে মেনে চলা অনেক বেশি সহজ হবে।
জারি করা সার্কুলারে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে অনুমোদিত ডিলার (এডি) হিসেবে পরিচিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বা আবেদনকারীদের পক্ষে মানি চেঞ্জার ও অনুমোদিত স্বর্ণ ডিলারের লাইসেন্সের প্রাতিষ্ঠানিক আবেদনপত্র যথাযথভাবে প্রক্রিয়া করে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রেরণের সুযোগ পাবে।
মোট ছয়টি স্বতন্ত্র অংশে বিভক্ত এই বিস্তৃত সার্কুলারটিতে লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়ার বাইরেও বৈদেশিক মুদ্রার অবাধ লেনদেন, খাঁটি স্বর্ণ ও ডোরে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া, অর্থপাচার ও চরমপন্থায় অর্থায়ন প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক পরিপালনীয় আইনি বিধিমালা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তথ্য ও প্রতিবেদন দাখিলের নিয়মাবলী বিশদভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিধি অমান্যকারী লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পরিদর্শন পরিচালনা এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করার পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে, সার্কুলারটি জারির সুনির্দিষ্ট তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য বলবৎ ও কার্যকর থাকবে। এই নতুন নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিপূর্বে পৃথকভাবে প্রকাশিত সকল সার্কুলার ও নির্দেশনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে আগামী দিনে এই নীতিমালার ওপর নতুন কোনো সংশোধনী বা নির্দেশনা জারি করা হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে।
দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন সময়ে জারি করা জটিল নিয়মকানুন এক সার্কুলারে নিয়ে আসায় লাইসেন্সসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ আগের চেয়ে স্বচ্ছ ও সহজ হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক এবং অন্যান্য নিবন্ধিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ঝুঁকি কমাতেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।


























