যুগোপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে নতুন ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই নতুন আইনের আওতায় গতানুগতিক ব্যবসায়ের পাশাপাশি শিক্ষা, বাড়ি ভাড়া, ইন্টারনেট, লন্ড্রি, কুরিয়ার সার্ভিস, সেলুন, বিউটি কেয়ার, ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং বিভিন্ন কনসালটেন্সিসহ সব ধরনের সেবামূলক খাতকে যুক্ত করা হচ্ছে।
ই-কমার্স ও ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় খাত ই-কমার্স ও ডিজিটাল ব্যবসাকে কঠোর আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। অনলাইন লেনদেন পর্যবেক্ষণের জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে অধিদপ্তর। এছাড়া ডিজিটাল গিফট কার্ড বা ওয়ালেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া বা বেটিং সাইট পরিচালনা কিংবা নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
অবৈধ মজুতদারি ও শাস্তির কড়াকড়ি: বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে কোনো পণ্য বা ওষুধ অবৈধভাবে মজুত বা সংরক্ষণ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নতুন ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, অবৈধ মজুতের দায়ে অনূর্ধ্ব দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিদ্যমান জরিমানা ও কারাদণ্ডের মেয়াদও বাড়ানো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ধারা ৩৭ অনুযায়ী অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে।
অন্যান্য পরিবর্তন ও পরবর্তী পদক্ষেপ: আইনের আওতায় ভেজাল ওষুধ প্রস্তুত ও বিক্রির তদারকি এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করার ক্ষমতা পাচ্ছে ভোক্তা অধিদপ্তর। পাশাপাশি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যাতে আপিল করতে পারেন, সেই সুযোগও নতুন আইনে রাখা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে খসড়ার ওপর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এটি জনগণের মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি পাঠানো হবে। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ক্যাবসহ বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার সংগঠন।


























