উপমহাদেশে মুসলিম শাসনকালে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, রাজনীতি ও সামাজিক জীবনের পাশাপাশি ধর্মীয় সহনশীলতার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছিল। স্থানীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মুসলিম শাসকদের সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং তারা পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করত। তবে আঠারো শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী নিজেদের শাসন সুসংহত করতে ও বিভাজন তৈরি করতে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি গ্রহণ করে। এই নীতির অংশ হিসেবে মুসলিম শাসনকে ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় এবং ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চালানো হয়।
ঔপনিবেশিক ইতিহাসচর্চায় বিশেষ করে সুলতান মাহমুদ গজনবিকে কেন্দ্র করে একের পর এক নেতিবাচক গল্প তৈরি করা হয়েছিল। তাকে লুণ্ঠনকারী, নিষ্ঠুর ও ধর্মীয় উন্মাদ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চালানো হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা। তবে বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক দলিল ও নিরপেক্ষ গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব প্রচলিত অভিযোগের অধিকাংশেরই কোনো শক্ত ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।
অধ্যাপক রোমিলা থাপারসহ প্রখ্যাত ইতিহাসবিদদের গবেষণায় দেখা গেছে, গজনবির ভারত অভিযানের সময় অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতি ক্ষমাশীল আচরণ করা হয়েছিল এবং অপ্রয়োজনীয় ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো হয়েছিল। এমনকি তার সেনাবাহিনীতে বহু হিন্দু সৈন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং গজনীতে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করতে পারত। মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাসকে পুনর্গঠন করার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসকরা তাদের ঔপনিবেশিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল।


























