Dhaka ০১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ ও সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত ২ সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ আজ

মাহমুদ গজনবির ভারত অভিযান: ঔপনিবেশিক ইতিহাসচর্চা ও বাস্তবতা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:৩৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৮ বার দেখা হয়েছে

উপমহাদেশে মুসলিম শাসনকালে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, রাজনীতি ও সামাজিক জীবনের পাশাপাশি ধর্মীয় সহনশীলতার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছিল। স্থানীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মুসলিম শাসকদের সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং তারা পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করত। তবে আঠারো শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী নিজেদের শাসন সুসংহত করতে ও বিভাজন তৈরি করতে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি গ্রহণ করে। এই নীতির অংশ হিসেবে মুসলিম শাসনকে ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় এবং ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চালানো হয়।

ঔপনিবেশিক ইতিহাসচর্চায় বিশেষ করে সুলতান মাহমুদ গজনবিকে কেন্দ্র করে একের পর এক নেতিবাচক গল্প তৈরি করা হয়েছিল। তাকে লুণ্ঠনকারী, নিষ্ঠুর ও ধর্মীয় উন্মাদ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চালানো হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা। তবে বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক দলিল ও নিরপেক্ষ গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব প্রচলিত অভিযোগের অধিকাংশেরই কোনো শক্ত ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

অধ্যাপক রোমিলা থাপারসহ প্রখ্যাত ইতিহাসবিদদের গবেষণায় দেখা গেছে, গজনবির ভারত অভিযানের সময় অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতি ক্ষমাশীল আচরণ করা হয়েছিল এবং অপ্রয়োজনীয় ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো হয়েছিল। এমনকি তার সেনাবাহিনীতে বহু হিন্দু সৈন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং গজনীতে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করতে পারত। মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাসকে পুনর্গঠন করার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসকরা তাদের ঔপনিবেশিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল।

জনপ্রিয়

প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ বন্ধ থাকবে ২৪ ঘণ্টা, ডেসকোর জরুরি নির্দেশনা

মাহমুদ গজনবির ভারত অভিযান: ঔপনিবেশিক ইতিহাসচর্চা ও বাস্তবতা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:৩৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

উপমহাদেশে মুসলিম শাসনকালে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, রাজনীতি ও সামাজিক জীবনের পাশাপাশি ধর্মীয় সহনশীলতার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছিল। স্থানীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মুসলিম শাসকদের সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং তারা পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করত। তবে আঠারো শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী নিজেদের শাসন সুসংহত করতে ও বিভাজন তৈরি করতে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি গ্রহণ করে। এই নীতির অংশ হিসেবে মুসলিম শাসনকে ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় এবং ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চালানো হয়।

ঔপনিবেশিক ইতিহাসচর্চায় বিশেষ করে সুলতান মাহমুদ গজনবিকে কেন্দ্র করে একের পর এক নেতিবাচক গল্প তৈরি করা হয়েছিল। তাকে লুণ্ঠনকারী, নিষ্ঠুর ও ধর্মীয় উন্মাদ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চালানো হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা। তবে বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক দলিল ও নিরপেক্ষ গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব প্রচলিত অভিযোগের অধিকাংশেরই কোনো শক্ত ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

অধ্যাপক রোমিলা থাপারসহ প্রখ্যাত ইতিহাসবিদদের গবেষণায় দেখা গেছে, গজনবির ভারত অভিযানের সময় অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতি ক্ষমাশীল আচরণ করা হয়েছিল এবং অপ্রয়োজনীয় ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো হয়েছিল। এমনকি তার সেনাবাহিনীতে বহু হিন্দু সৈন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং গজনীতে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করতে পারত। মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাসকে পুনর্গঠন করার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসকরা তাদের ঔপনিবেশিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল।