বিগত দেড় বছরের ব্যবধানে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের যে অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছে, তার বিবরণ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা নিয়োজিত আছেন, তাদের হয়তো এই ক্ষতির ব্যাপ্তি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকার কথা। বিভিন্ন উপায়ে চক্রান্ত জাল বুনে তারা দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার ছক কষেছিল, তবে দেশের সচেতন জনগণ সেই পরিকল্পনা সফল হতে দেয়নি। বর্তমানে দেশে চলমান তীব্র জ্বালানি বা গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত এক বছর সময়ের প্রয়োজন হবে। তৎসত্ত্বেও যথাসম্ভব জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখে সরকার বাসাবাড়ি ও শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মধ্যাহ্নে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
খেদ প্রকাশ করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমাদের পরম দুর্ভাগ্য যে আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সমগ্র বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের যুদ্ধাবস্থা ও সংঘাত শুরু হয়ে গেল। ইরান, ইউক্রেন এবং বর্তমানে সৌদি আরবেও উত্তেজনা ও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক নানা অশুভ পরিস্থিতির কারণে আমরাও কঠিন অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মুখোমুখি হয়েছি। মূলতঃ এই আর্থিক সংকট এখন বিশ্বজুড়ে সর্বত্র বিদ্যমান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তৎকালীন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থব্যবস্থা ও কাঠামোর যে অশেষ ক্ষতিসাধন করেছিল, তা তো সর্বজনবিদিত। কিন্তু তার ওপর বিগত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সৃষ্ট ক্ষতি বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। উন্নত ইউরোপের দেশগুলোতে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে তিনশো টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। অথচ আমাদের দেশের কিছু কুপরামর্শদাতা ও অসভ্য মানুষ সাধারণ জনগণকে খেপিয়ে তুলে ভিত্তিহীন কারণে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনে নামার প্ররোচনা দিচ্ছে। একদল সুসংগঠিত ‘বট বাহিনী’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে তৎপর রয়েছে। এই বট বাহিনী বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সবসময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, যা থেকে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। এই অপপ্রচার রুখতে তিনি গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে জানান, সাধারণ মানুষকে জীবনযাত্রায় স্বস্তি এনে দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো ধরণের মাদকের সাথে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কোনো অপকর্মে লিপ্ত হলে তাকে দল থেকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করতে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না। এছাড়া সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সরকার দিনরাত কাজ করছে।
আলোচনা পর্ব শেষে মন্ত্রী বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় পূজামণ্ডপগুলোতে সরকারি অনুদানের অর্থ হস্তান্তর, শিক্ষার্থীবৃন্দের মাঝে ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ এবং এলাকার গরিব ও দুস্থদের মাঝে অনুদানের চেক প্রদান করেন। কর্মসূচি চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়।
উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সুধী সভায় সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) জোনাঈদ আফ্রাদ, বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন, বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুজ্জামান গামা, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাজহাজান শাওন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান তুলন এবং স্থানীয় মহিলা দলের সভানেত্রী শান্তি আক্তার শিউলী সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মী।






















