ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার প্রকাশ্য ও কঠোর হুমকি দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হুতিদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র সমালোচনা করে তিনি সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনের পর ক্ষমতা সুসংহত করে তিনি এই হামলার জবাব দিতে কোনোভাবেই ভুলবেন না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হুতিরা দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর পুনরায় সক্রিয় হয়েছে এবং মূলত ইরানের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই তারা এই সংঘাতময় তৎপরতা চালাচ্ছে। আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই বিশ্ববাজারে কৃত্রিমভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়াতে ও বাজার অস্থিতিশীল করার অসৎ উদ্দেশ্যে তারা সৌদি আরবে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তুলেন।
একই পোস্টে তেহরানকে আক্রোশমূলক আক্রমণ করে ইরানকে একটি সম্পূর্ণ ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামোর কড়া সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দেশটিতে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৩০১ শতাংশে এসে ঠেকেছে। হুতিদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের পরেও তাঁর অবস্থান শক্ত থাকবে এবং এই হামলার যথাযথ মাশুল দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অনমনীয় ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের মূল বার্তা হলো আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই মধ্যপ্রাচ্যে হুতি আস্তানাগুলোতে সরাসরি মার্কিন বিমান ও কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। সাম্প্রতিক এপি-এনওআরসি (AP-NORC) জনমত জরিপে উঠে এসেছে যে, প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে বা ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অহেতুক ও অনভিপ্রেত মনে করছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিজেদের আসন ধরে রাখতে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের এই অসন্তোষকে পুঁজি করে ক্যাপিটল হিলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

























