আন্তর্জাতিক মানবপাচার এবং ঝুকিপূর্ণ অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে একযোগে জোরালোভাবে কাজ করার বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সাথে ইউরোপের মূলধারার সমৃদ্ধ শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের সহজ প্রবেশাধিকার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত করার জন্য ২৭ দেশের এই অর্থনৈতিক জোটটির প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ এক দ্বিপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক দাপ্তরিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, উক্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ২৭টি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোটটির অভ্যন্তরীন ও অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে আমরা পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। অনিয়মিত অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং সমগ্র অভিবাসন খাতকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে সরকার ইতিমধ্যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং একাধিক কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর করেছে। এসব প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সম্প্রতি ৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির কাজ করার লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।’
কর্মীদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ইইউর আন্তর্জাতিক ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় নিবিড়ভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইউরোপের বিভিন্ন পেশাদার বাজারে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের প্রবেশাধিকার আরও ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার সুযোগ তৈরি করার জন্য অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সভায় ‘বাংলাদেশ-ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’-এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য ও প্রযুক্তি (আইটি), সুউচ্চ নির্মাণ খাত, তৈরি পোশাকশিল্প, জাহাজ নির্মাণ, আধুনিক কৃষি এবং হসপিটালিটি সেক্টরে বাংলাদেশের যোগ্য ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে জোরালো সহযোগিতা জোর দেওয়ার অনুরোধ করেন প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ।
এর পাশাপাশি ইউরোপীয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের কর্মদক্ষতা সঠিক মূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক সনদ প্রদান, প্রয়োজনীয় ভাষা প্রশিক্ষণ জোরদার করা, প্রাতিষ্ঠানিক ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং ‘জাতীয় পুনর্বাসন নীতি ২০২৫’ অনুযায়ী ইউরোপ থেকে প্রত্যাগত কর্মীদের সঠিকভাবে পুনর্বাসিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা কামনা করেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইইউর অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবপাচার এবং মারাত্মক অবৈধ অভিবাসন কঠোরভাবে দমনের পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ পথে আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’
উচ্চপর্যায়ের এই দ্বি-পাক্ষিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাশেদুল হক এবং যুগ্মসচিব শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।
অপরদিকে ইইউ প্রতিনিধি দলে প্রধান কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ছাড়াও জোটের পরিচালক হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট মেম্বার গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস এবং কমিশনারের যোগাযোগ উপদেষ্টা লুকাস গাসনার উপস্থিত ছিলেন। একই সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলেগেশন বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট কাউন্সেলর ও পলিটিক্যাল অফিসার কামিলা পার্টিস্কা বৈঠকে সরাসরি অংশ নেন।






















