কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রামদা ও কুড়ালসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র সমেত সোহান (২২) নামের এক সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয় জনতা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ডাকাত দলের অপর কয়েকজন সদস্য রাতের আঁধারে কৌশল পালটে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আটককৃত যুবককে উত্তেজিত এলাকাবাসী দৌলতপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককালে তার কাছ থেকে সরাসরি ১টি ধারালো রামদা এবং ১টি দেশীয় হাত কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত পিপুলবাড়ীয়া-বালিডাঙ্গা মাঠের নির্জন এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধাওয়া খেয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া যুবক সোহান দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গঙ্গারামপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কালুর ছেলে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে পিপুলবাড়ীয়া-বালিডাঙ্গা মাঠের অন্ধকার ও নির্জন অংশে বেশ কয়েকজন সশস্ত্র ডাকাত একজোট হয়ে পথচারী ও যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি আশপাশের কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা টের পেয়ে একজোট হয়ে ডাকাত দলকে ঘেরাও করে ধাওয়া করেন। স্থানীয় জনতার আকস্মিক উপস্থিতি ও ধাওয়া খেয়ে সঙ্গে থাকা কয়েকজন দ্রুত সটকে পড়ে পালিয়ে গেলেও অস্ত্রসহ সোহানকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তারা। পরবর্তীতে খবর দিয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশের নিকট তাকে ধারালো অস্ত্রসহ হস্তান্তর করা হয়।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই পিপুলবাড়ীয়া-বালিডাঙ্গা মাঠ এবং এর সংলগ্ন নির্জন ও অপ্রশস্ত সড়কগুলোতে এর আগেও একাধিকবার ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব পূর্ববর্তী সহিংস ঘটনায় ডাকাত দলের নির্মম হামলায় বেশ কয়েকজন পথচারী ও চালক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ বিপুল অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মান্য মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীরা ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে জানান, সন্ধ্যা নামার পরপরই ওই এলাকার নির্জন সড়ক ও আশপাশের খোলা মাঠের পাশ দিয়ে যাতায়াত করতে সাধারণ পথচারী ও চালকেরা চরম আতঙ্কিত বোধ করেন। যেকোনো জরুরি ও প্রয়োজনীয় কাজে রাতের বেলায় বাইরে বের হলেও মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় তাদের। বিশেষ করে রাতের আঁধারে একা চলাচল করা ওই সীমান্ত ও মাঠ এলাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে সেখানে ডাকাতির কবলে পড়া বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে দৌলতপুর থানায় একাধিক মামলাও দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়ে প্রস্তুতিকালে স্থানীরা সাহসিকতার সঙ্গে দেশীয় অস্ত্রসহ সোহান নামের ওই যুবককে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন। এ সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার সহযোগী আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়। ওসি আরও নিশ্চিত করেন যে, ওই নির্দিষ্ট এলাকায় অতীতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে এবং সেসব ঘটনায় থানায় সুনির্দিষ্ট আইনগত মামলা রয়েছে। আটক ব্যক্তিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে; এই অপরাধ চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত অন্য আসামিদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হবে।


























