চলতি ২০২৬ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের ২০২৫ সালের একই সময়ের অর্জিত হিসাবের তুলনায় ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। ব্যাংকটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন মেয়াদে দেশে নিট এফডিআই এসেছিল ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি পঞ্জিকা বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মোট ১১১ কোটি ৩২ লাখ ডলারের এফডিআই বাংলাদেশে এসেছে। তবে একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৭৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার মূলধন ও মুনাফা হিসেবে ফেরত নিয়ে গেছেন। ফলে নিট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের একই সময়ে মোট ১০৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের এফডিআই বাংলাদেশে এসেছিল, যার মধ্যে ৭৮ কোটি৭১ লাখ ডলার ফেরত নিয়ে গিয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা।
বিনিয়োগের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট নতুন মূলধন বা ইক্যুইটি এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের (৮ কোটি ১৩ লাখ ডলার) চেয়ে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। তাছাড়া আন্তকোম্পানি ঋণ খাত থেকে বিনিয়োগ এসেছে ৮৬ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে আগের বিনিয়োগের ওপর পাওয়া আয় থেকে পুনর্বিনিয়োগ বা ‘রিইনভেস্টেড আর্নিংস’ অর্জিত হয়েছে ২৬ কোটি ৯ লাখ ডলার। গত বছরের ১৬ কোটি ৮২ লাখ ডলারের তুলনায় এবার পুনর্বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রান্তিকভিত্তিক (ত্রৈমাসিক) বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিট এফডিআই ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে নিট এফডিআই ছিল ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। তবে রাজনৈতিক নানা অনিশ্চয়তা ও নানাবিধ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সার্বিকভাবে গত বছর নিট এফডিআই আসার প্রবণতায় ৩৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছিল।


























