বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য অভিবাসন সংক্রান্ত সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিহতকরণ এবং প্রতারণাপূর্ণ অনিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অসহায় মানুষদের শোষণকারী আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের হাত থেকে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে।
গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ ও যৌথ উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোটি মূলত যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি কার্যকর ও সমন্বিত পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করবে। এটি নথি জালিয়াতি, ভুয়া ভিসা তৈরি এবং অনিয়মিত অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট যাবতীয় অবৈধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ এবং তা দূরীকরণে নিবিড় প্রশাসনিক ও আইনগত সহযোগিতাকে সরাসরি সহায়তা জোগাবে। এই নতুন অংশীদারিত্ব বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর সুসম্পর্ক এবং অনিরাপদ ও বিপজ্জনক অবৈধ অভিবাসন পথ ব্যবহার করে ফায়দা লোটা অপরাধী চক্রগুলোর শোষণ থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের সুরক্ষায় দুই দেশের দৃঢ় যৌথ অঙ্গীকারকেই পুনর্ব্যক্ত করে।
সম্পাদিত এই সমঝোতা চুক্তির আওতায় উভয় দেশ নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান করবে এবং ক্ষেত্রপর্যায়ে যৌথ কার্যক্রম সংক্রান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে সার্বিক কাজের অগ্রগতির নিয়মিত পর্যালোচনা ও উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য নিয়মিত বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এ প্রসঙ্গে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে। এই সমঝোতা চুক্তিটি মূলত সেসব সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের হাত থেকে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদানে দুই দেশের জোরালো মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, যারা কেবল নিজেদের আর্থিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অবৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে শোষণ করে থাকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের সমন্বিত ও নিবিড় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় রাষ্ট্র অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূল করতে, বৈধ ও যথাযথ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে এবং যেকোনো ধরনের প্রতারণা, শোষণ কিংবা মানব পাচারের শিকার হওয়া থেকে সাধারণ মানুষ ও পরিবারগুলোকে সুরক্ষায় কাজ করবে।






















