আন্তর্জাতিক বাজারে পুরোনো জাহাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা কাজে লাগাতে এবং পরিবেশবান্ধব জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পের প্রসারে দেশে গ্রিন শিপইয়ার্ডের সংখ্যা শতাধিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে ৩১টি গ্রিন সার্টিফায়েড শিপইয়ার্ড রয়েছে এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সনদ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ খাতে আন্তর্জাতিক মান অর্জন ও নকশার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক অবকাঠামো তৈরিতে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে চারটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিবেশবান্ধব এই খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বিশ্ববাজারের মোট শিপ রিসাইক্লিংয়ের সিংহভাগই বাংলাদেশ ও ভারতের দখলে। আগামী ৫ থেকে ৭ বছরে বিপুলসংখ্যক পুরোনো জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের জন্য আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে রপ্তানি আদেশ পেতে আন্তর্জাতিক বিধিমালা বা কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর ব্যাংক গ্যারান্টিজনিত জটিলতা কাটাতে নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ডগুলোর সঙ্গে বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা নিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য শোধন ও ব্যবস্থাপনার জন্য মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৫৯ দশমিক ৩৫ একর জমিতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি’ (টিএসডিএফ) স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। এতে অর্থায়নে জাইকা, এডিবি, বিশ্বব্যাংক ও চীনের একটি ব্যাংক ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, টিএসডিএফ অবকাঠামো না থাকায় ইউরোপীয় জাহাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশে আসতে দ্বিধা করছে। তাই পরিবেশের মান বজায় রেখে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত এই বর্জ্য শোধনাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন।


























