সুন্দরবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বনদস্যুতা দমনে এক বড় সাফল্যের অংশ হিসেবে সক্রিয় দস্যু ‘আলিফ বাহিনী’র ১৫ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সুন্দরবন রিজিয়নাল বোট (এসআরবি)-৬-এর কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আবদুল্লাহ গ্রুপের আটজন এবং মজিদ গ্রুপের সাতজন সদস্য রয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের খুলনা প্রতিনিধিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, আলিফ বাহিনীর এই গুরুত্বপূর্ণ ১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বনের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ অন্যান্য বনজীবীরা সম্পূর্ণ নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত রাখা এবং স্থানীয় বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এসআরবি-৬-এর মূল অগ্রাধিকার। যেকোনো ধরনের জলদস্যুতা, জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযান, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং চরম অনিশ্চিত অপরাধ জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার তাড়না থেকেই দস্যুরা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
এসআরবি-৬ সূত্রে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী এসব দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম চলছে। উল্লেখ্য, অতীতে সরকারের সফল পুনর্বাসন উদ্যোগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন চক্র এবং পুরাতন দস্যুদের পুনরুত্থানের চেষ্টাকে কঠোর হাতে দমন করছে এসআরবি-৬।


























