আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে হলেও ক্ষমতায় যেতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ফ্যাসিবাদের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার চেয়ে ক্ষমতা দখলে নিতেই বেশি লালায়িত।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ মেহেদী হাসান রব্বির কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘স্ট্রিম’-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র এক মাসের মাথায় জামায়াতের আমির তাদের ঢালাওভাবে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। গণহত্যায় জড়িতদের এভাবে ক্ষমা ঘোষণার মধ্য দিয়ে জামায়াত আমির মূলত এক ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন এবং এই অপরাধের জন্য তাঁর বিচার হওয়া উচিত।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, দলটির নেতারা অতীতে জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে আখ্যা দিলেও এখন তাঁরা রহস্যজনক নীরবতা পালন করছেন। এনসিপি নেতারা চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন বিক্রি করে বিলাসী জীবনযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ এনে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে এনসিপি চরম লুটপাট চালিয়েছে এবং আরও কিছুদিন সময় পেলে দুর্নীতিতে তারা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যেত।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি বাংলাদেশ থেকে গণধিকৃত হয়ে পালিয়ে গেছে এবং তারা মূলত ‘ভারতের একটি বর্ধিত অংশ’ (এক্সটেনশন) হিসেবে কাজ করছে। দেশে থাকা আওয়ামী দোসরদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ছাত্রদলই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বিদেশি চাপের বিষয়টি খারিজ করে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভারত—কোনো পরাশক্তির কাছে মাথানত করে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনা নিয়ে বাংলাদেশকে কেউ চাপ দিচ্ছে এমন কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই। তবে ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায় করেছে। শেখ হাসিনা এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ কম।
কবর জিয়ারত ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে রাশেদ খাঁন শহীদ মেহেদী হাসান রব্বির বাসভবনে যান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় মাগুরা জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






















