রাজধানীর জনগণের স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য ফুটপাতে আর কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে রাজধানী জুড়ে অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়োজনে রাজধানীর মিরপুরে মেট্রোরেলের পিলারে ‘লেটস রিমেক জুলাই গ্রাফিতি’ শীর্ষক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিযানের সময় ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা সহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনস্থ সকল ফুটপাতকে অবৈধ হকারদের হাত থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করে সাধারণ নগরবাসীর চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এছাড়া মেট্রোরেলের দৃষ্টিকটু পোস্টার অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের সকল পিলার থেকে পোস্টার ও ময়লা-আবর্জনা পুরোপুরি সরিয়ে সেখানে ‘জুলাই গ্রাফিতি’ অঙ্কন করব। তবে এতে কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ করা হবে না; জুলাই-আগস্টের জাতীয় আন্দোলন ও সংগ্রামে যারা প্রকৃত ভূমিকা রেখেছেন, কেবল তাদেরকেই এই গ্রাফিতির চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হবে।”
সম্প্রতি সংঘটিত অটোরিকশা আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলনের নামে রাস্তায় সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে মূলত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও স্থানীয় নেতাদের প্রকাশ্যে অংশ নিতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অটোরিকশার পক্ষে সাধারণ মানুষ রাজপথে এসে ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করবে—এমন একজন মানুষও নেই। জনগণের কাছে এভাবে খোলস বদলিয়ে বারবার পার পাওয়া যাবে না। ছদ্মবেশ ছেড়ে আপনারা গণতন্ত্রের সঠিক পথে ও জনগণের কাতারে আসুন। আমরা চাই আপনারা সিটি করপোরেশনের ভালো কাজে সহযোগিতা করবেন।”
সরকার ও সিটি করপোরেশনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোর পাশে অবস্থান নিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “আসুন আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ থাকি। সরকার ও সিটি করপোরেশন যে ভালো ও জনকল্যাণমুখী কাজগুলো করছে, সেই কাজগুলোর পাশে আপনারা দয়া করে দাঁড়াবেন। তবে প্রশাসনিক কাজের সমালোচনা অবশ্যই হবে। আমরা কথা দিয়েছিলাম—বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পূর্ণ গণতন্ত্র ও স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমানের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এখন যেন একটু বেশি গণতন্ত্র চর্চা হয়ে গেছে। তবে তার মানে এই নয় যে, যার যা ইচ্ছা তাই করবেন।”
ফুটপাত দখলকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের প্রতিটি অলিগলি ও প্রধান সড়কের ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হবে। যেসব জায়গায় উচ্ছেদ নিয়ে স্থানীয় জটিলতা রয়েছে, সেখানকার গণমানুষের সরাসরি সহযোগিতা নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। বর্তমানে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ফুটপাত দখলকারীদের পেছনে থেকে ইন্ধন ও উসকানি দিয়ে আবার হকারদের বসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “কেউ যদি পুনরায় ফুটপাত দখলের কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত করে, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তাদের কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।”

























