মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গাংনী উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই এই রোগে ৪৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৩ বছরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে গাংনীর কাজিপুর, মটমুড়া, সাহারবাটি ও বামন্দী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে সংক্রমণ পরিস্থিতি নতুন করে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত চার মাসে অ্যানথ্রাক্স সন্দেহে পাঠানো ৫৫টি নমুনার মধ্যে আইইডিসিআরের পরীক্ষায় ৪৫ জনের শরীরে এই জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ‘ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস’ নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এ রোগ হয়। আক্রান্ত বা অসুস্থ গবাদিপশু জবাই করা, মাংস কাটা কিংবা নাড়াচাড়ার সময় সরাসরি সংস্পর্শে আসার কারণে মানুষ সহজেই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাতে পূর্বের কোনো ক্ষত বা কাটাছেঁড়া থাকলে ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। সংক্রমণ বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারের ধরন খতিয়ে দেখতে আইইডিসিআরের ডা. আরিফের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ গবেষক দল বর্তমানে মেহেরপুরে কাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রায় ৩০ হাজার গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও দুই শতাধিক গবাদিপশু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল পশুকে টিকা দিলেই চলবে না, বরং অসুস্থ পশু জবাই পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং মাংস সংগ্রহ ও রান্নার প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনসহ কাঁচা মাংস কাটার সময় গ্লাভস ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।


























