দেশভাগের দীর্ঘ প্রায় আট দশক পর ভারতের আসাম রাজ্য থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক নৌরুটে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ভারতের আসামের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি বিশেষ কার্গো জাহাজ ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ঢাকার পানগাঁও নৌবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সোমবার একটি জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক নৌপথের শুভ উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। উক্ত অনুষ্ঠানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এছাড়া রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’-এর (এপিসিএল) নামরূপ কারখানায় উৎপাদিত এই মিথানলবাহী জাহাজটি ব্রহ্মপুত্র নদের ‘জাতীয় জলপথ-২’ ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। এরপর ‘ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট’ (আইবিপিআর) ধরে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এটিকে মোট প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপনে ব্রহ্মপুত্র নদ কতটা কার্যকর, তা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে এই যাত্রাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেષণে দেখা যায়, একসময় ডিব্রুগড় পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল এবং উনিশ শতক থেকে সেখানে নিয়মিত স্টিমার চলাচল করত। তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে নদীর তলদেশের ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটলে এই নৌপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ডিব্রুগড় ঘাট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ নদী বাণিজ্য প্রোটোকল স্বাক্ষর করলেও বর্তমান এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্ধ থাকা ঐতিহাসিক রুটটি পুনরায় চালু হলো, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

























