অতীতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ব্যাংক খাতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সে সময় প্রণীত যুগোপযোগী ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’-এর মূল ভিত্তি ছিল প্রকৃত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সম্মান জানানো এবং তাদের মেধা ও মূলধনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক খাতকে মজবুত করা। ফলে দেশে শিল্পের অভূতপূর্ব প্রসার ঘটে এবং ব্যাংকগুলো সাধারণ মানুষের আস্থার নির্ভরযোগ্য ঠিকানায় পরিণত হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে মূলধন পেয়ে উৎপাদন খাত সচল রাখেন, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি গতিশীল হয়।
কিন্তু বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক হীন স্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইনে লাগাতার সংশোধন আনা হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে দেশের অভিজ্ঞ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের আইনি কৌশলে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় অনভিজ্ঞ ও লুটেরা চক্রকে। এর ফলে পুরো ব্যাংক খাত তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। আইন লঙ্ঘন করে ব্যাংকের আমানতের একটি বিশাল অংশ ভুয়া ঋণ হিসেবে তুলে নেওয়া হয় এবং বিদেশে পাচার করা হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় একের পর এক নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ফলে ব্যাংক খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনারও তীব্র সংকট তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আর্থিক খাতের সুশাসন ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

























