বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো ধরনের প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর সরকারি কলেজের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এবং দিনাজপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনায় ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে এই বর্ণাঢ্য সভার আয়োজন করা হয়। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বার্তা বাজার’-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যদি কোনো দিন প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করত, তবে ১৯৮১ সালে স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর ১৯৯১ সালে বিএনপি যখন বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তখনই তাদের সামনে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি চরম রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দিয়েছিল এবং কোনো প্রতিশোধের পথ বেছে নেয়নি।
বিগত সরকারের শিক্ষা ও সামাজিক নীতির তীব্র সমালোচনা করে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন, তারা দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন কখনোই চাননি। কারণ, এ দেশের সাধারণ মানুষের ওপর তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক আস্থা বা বিশ্বাস ছিল না। তাদের যাবতীয় আস্থা ছিল নিজেদের বিদেশনির্ভর মুরুব্বিদের ওপর। সেই শাসকেরা বিশ্বাস করতেন যে, তাদের মুরুব্বিরা যতদিন তাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারবেন, ততদিনই তারা দেশ শাসন করে যেতে পারবেন।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর সেই কথিত মুরুব্বিরাও তাদেরকে আর রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারেননি। পরবর্তীতে পতনের পর তারা আবার সেই চেনা মুরুব্বিদের কাছেই পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। বক্তব্যের শেষাংশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী স্পষ্ট মন্তব্য করেন যে, জনগণের সরাসরি ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত নয়—এমন কোনো অনির্বাচিত সরকারের সাধারণ মানুষের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না।






















