দেশে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে জাকাত আদায়ের পরিমাণ খুবই সীমিত। বিভিন্ন গবেষণায় বাংলাদেশে জাকাতের সম্ভাব্য পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা বলা হলেও সরকারি তহবিলে জমা হয় নামমাত্র অঙ্ক। তবে কেবল জাকাত আদায়ের পরিমাণ কম হওয়াই মূল সমস্যা নয়, বরং এর সঠিক বণ্টন-কাঠামোর অভাবও এর জন্য দায়ী।
ইসলাম ধর্মে জাকাত ব্যয়ের আটটি খাত নির্দিষ্ট করা থাকলেও এর মধ্যে সপ্তম ও অষ্টম খাত—যথাক্রমে ‘ফি-সাবিলিল্লাহ’ এবং ‘ইবনিস-সাবিল’ বা মুসাফির—আমাদের দেশে প্রায় অব্যবহৃতই রয়ে গেছে। অথচ বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় দুটি সংকট—রোহিঙ্গা সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষের দুর্দশা—এই খাতের সঙ্গেই সরাসরি সম্পর্কিত।
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষ কিংবা নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো অসহায় ব্যক্তিরা ইসলামী ফিকহের পরিভাষায় জাকাতের হকদার। শরণার্থী, বাস্তুচ্যুত ও পথশিশুদের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে জাকাতের এই প্রাচীন খাতগুলোকে আধুনিক সময়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র অনেকটাই বদলে যেতে পারে।


























