প্রশান্তির এক অনন্য উৎস হলো কন্যাসন্তান, যার আগমন পরিবারে নিয়ে আসে এক স্নিগ্ধতা ও অনাবিল আনন্দ। যেমন স্বচ্ছ জলের ধারা নীরবে পাথরের বুক ছুঁয়ে বয়ে যায়, তেমনি কন্যাসন্তানও তার মায়াবী হাসি আর ভালোবাসার ডাকে মায়ের হৃদয়ে জাগায় অদৃশ্য এক পরিতৃপ্তি, বাবার ক্লান্ত মুখে এনে দেয় অনাবিল হাসি।
যখন কন্যাসন্তানকে ঈমান, হায়া, আদব ও তাকওয়ার আদর্শে গড়ে তোলা হয়, তখন তার কোমল অস্তিত্ব কেবল এই দুনিয়ার প্রশান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; আল্লাহর ইচ্ছায় সে হয়ে ওঠে বাবার জন্য আখিরাতেরও এক সম্ভাব্য রহমতের দরজা। অসুস্থতায় কন্যার সেবা, জায়নামাজে মা-বাবার জন্য তার অঝোর ধারায় মোনাজাতের অশ্রু—এ সবই যেন অমিয় রহমতের সুধা। কন্যা শুধু একটি সন্তান নয়; সে আল্লাহর দেওয়া এক আমানত, অনন্য রহমত এবং উচ্চতর রিজিক।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) যখন কারো কন্যাসন্তান হওয়ার খবর শুনতেন, তিনি বলতেন, ‘তাকে গিয়ে বলো, নবীরা হলেন কন্যাসন্তানের বাবা।’ অর্থাৎ, কন্যাসন্তানকে যদি ঈমান, তাকওয়া, আদব ও সুন্দর চরিত্রের আলোকে গড়ে তোলা যায়, তবে তার অস্তিত্ব বাবার জন্য দুনিয়ার প্রশান্তি এবং আখিরাতে নাজাতের অসিলা হয়ে দাঁড়ায়।
জাহেলিয়াতের অন্ধকারে একসময় কন্যাসন্তানের জন্মকে কেউ কেউ লজ্জা ও বোঝা মনে করত। পবিত্র কোরআন সেই মানসিকতাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়।’ (সুরা আন-নাহল : ৫৮)
নবীজি (সা.) কন্যাসন্তানকে কখনোই বোঝা হিসেবে দেখেননি; বরং তাদের প্রতি উত্তম আচরণকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কন্যাদের দায়িত্ব গ্রহণ করে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে ঢাল হবে।’ (বুখারি : ৫৯৯৫)
হাদিসের এই সত্যতা কখনো কখনো জীবন্ত হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়ায় হৃদয়বিদারক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা তার বাবার জন্য এমনই এক মায়াভরা দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে। তার বাবা অনিক সরদারকে চুরির অভিযোগে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠলে ছোট্ট তুবা ছুটে যায় বাবার কাছে। অসহায় বাবাকে দেখে কান্নায় ভে


























