রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট এক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মিরপুর থানায় মোট তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে একটি, পুলিশ বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে আরেকটি এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। এই তিন মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচশ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে কাফরুল থানায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে নামে ডিএনসিসি। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল। অভিযانকালে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে এক্সকাভেটর বা ভেকুর আঘাতে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই সেই আগুন আশপাশের পাঁচটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুন লাগার পরপরই ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর চড়াও হন, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়ি এবং পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরসহ আগুন দেওয়া হয়। এই সহিংসতার কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন। পরে দুপুরের দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।

























