আওয়ামী লীগকে রাজপথে কোনো ধরনের সংঘাতের মাধ্যমে নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলেই মোকাবিলা করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। একই সঙ্গে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং দেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সবসময় জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব। এর মানে এই নয় যে আমরা তাদের সঙ্গে মুখোমুখি কোনো মারামারিতে লিপ্ত হতে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ—বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব—আজকে আমরা পুনরায় প্রতিষ্ঠার সূচনা করতে সক্ষম হয়েছি।’
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পতনের মধ্য দিয়ে আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে চিরতরে বিতাড়িত করতে পেরেছি। হয়তো কেউ কেউ বলতে পারেন যে তিনি স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছেন। কিন্তু এত দিন তো তিনি স্বেচ্ছায় যাননি, বরং ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন এবং জনস্রোতের মুখেই তাকে দেশত্যাগে বাধ্য হতে হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা পালিয়ে গেলেও তাদের ‘ফ্যাসিস্ট চরিত্র ধারণকারী’ কিছু লোক এখনো দেশে লুকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে তাদের নানা অপকর্মের আলামত দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের জীবনে অস্থিরতা তৈরি করা এবং গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত চলছে। এমনকি কোথাও কোথাও ভোরবেলা ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার মতো ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে।’
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সবসময় জনগণের কল্যাণে ও পক্ষে রয়েছে। দেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা কোনো অবস্থাতেই আর ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশও সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।’
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব প্রশাসনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গোপনে বিভিন্ন দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।


























