ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের জলপথ ব্যবহার করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে মিথানল রপ্তানি শুরু হতে যাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’ (এপিএল) এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভক্তির পর উত্তর-পূর্ব ভারতের ডিব্রুগড় অঞ্চল থেকে নদীপথে আন্তর্জাতিক কোনো বাণিজ্যিক পণ্য প্রেরণের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম ঐতিহাসিক ঘটনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা এই উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মিথানল পরিবহনের এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে আসাম সরকারের অভ্যন্তরীণ জলপরিবহন বিভাগ থেকে দুটি কার্গো জাহাজ ইজারা নিয়েছে এপিএল কর্তৃপক্ষ। প্রায় তিন দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা নৌযান দুটিকে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো ডিব্রুগড়ে উৎপাদিত এই রাসায়নিক পদার্থ নদীপথেই সরাসরি ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া। এই কৌশলগত উদ্যোগের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে স্বল্প খরচে এবং সাশ্রয়ী উপায়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত ও অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।
ইতিমধ্যেই এই বাণিজ্যিক যাত্রার অংশ হিসেবে প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ ‘ডিএলবি পাটকাই’ ডিব্রুগড়ের বগিবিল ঘাটে এসে অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে জাহাজটি ঠিক কবে নাগাদ বাংলাদেশের উদ্দেশে তার আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত যাত্রা শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। উল্লেখ্য, আসাম রাজ্য সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএল মূলত মিথানল ও ফরমালিন প্রস্তুত করে থাকে, যা মূলত পূর্ব আসামের তেলক্ষেত্রগুলোতে বিদ্যমান বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসকে শিল্প উৎপাদনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই গড়ে তোলা হয়েছিল।


























