চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে বিএনপি নেতা পরিচয়ে এক মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যানের মার্কেট দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পুঁইছড়ী ইউনিয়নের প্রেমবাজারে এই ঘটনা ঘটে। রোববার এ ঘটনায় বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পুঁইছড়ী প্রেমবাজারে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল গণি চৌধুরীর মালিকানাধীন একটি মার্কেট অবৈধভাবে জবরদখল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন গিয়াস উদ্দিন নামের এক যুবক, যিনি নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে আদালতের মাধ্যমে তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা তোয়াক্কা করেননি। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি একদল লোক নিয়ে মার্কেটটি দখল করে নেন এবং মার্কেটের আটটি দোকানে থাকা মালামাল লুট করেন। এরপর মার্কেটের চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে ‘জায়গাটির মালিক মরহুম বশির আহমদের ওয়ারিশগণ’ নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
মার্কেটের কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান কাজল বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে লোকজন নিয়ে এসে মার্কেটটি দখল করে নেন। মার্কেটে থাকা আটটি দোকানের প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, মার্কেটের ভবনে থাকা অফিসের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মার্কেটটি ১৭ বছর ধরে সুলতানুল গণি জবরদখল করে রেখেছেন। এই মার্কেটের প্রকৃত মালিক আমরা।’ তবে তিনি চাঁদা দাবি কিংবা জোরপূর্বক দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, সুলতানুল গণি চৌধুরীর অভিযোগ, মার্কেটের জায়গাটি তিনি ১৯৮৯ সালে ক্রয় করেছিলেন। পরে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি তা বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, ‘পূর্ব পুঁইছড়িতে একটি মার্কেটে টিনের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






















