জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট অনুবিভাগ তামাকযুক্ত সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য নির্ধারণ করে একটি আদেশ জারি করেছে। নতুন এই আদেশ অনুযায়ী, মোট চারটি স্তরে সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, সর্বনিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬৫ টাকা এবং সর্বোচ্চস্তরে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্তরে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য যথাক্রমে ৭২ টাকা ও ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য কাঠামোতে চারটি স্তরের প্রতিটিতেই সম্পূরক শুল্কের হার অভিন্নভাবে ৬৭ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।
আদেশে রাজস্ব হ্রাস-বৃদ্ধি সংক্রান্ত তুলনামূলক বিবরণী পরবর্তী প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এনবিআরে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনবিআরের ওয়েবসাইটে গত রোববার মূল্য নির্ধারণের এই আদেশ প্রকাশ করা হয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ১২৬(১) উপ-ধারা এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮ক-এর আওতায় এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) মো. আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এই আদেশটি জারি করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট অনুযায়ী স্থানীয় সরবরাহের ক্ষেত্রে এইচ.এস. কোড ২৪০২.২০.০০-এর অধীন তামাকযুক্ত সিগারেটের এই নতুন মূল্যস্তর কার্যকর করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লেভারিং ক্যাপসুল সংবলিত সিগারেট নিম্নস্তরে সরবরাহের ফলে তরুণ ও নতুন ধূমপায়ীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে উল্লেখ করে এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় ফ্লেভারিং ক্যাপসুলযুক্ত কোনো সিগারেট মধ্যম স্তরের নিচে (অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় নিম্ন স্তরে) সরবরাহ করা যাবে না। এছাড়াও, গত ১৬ সেপ্টেম্বরে বাজারে বলবৎ ছিল—এমন কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কোনো অবস্থাতেই কমানো যাবে না বলে আদেশের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের জারি করা আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে শলাকার সংখ্যা, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং প্রকৃতি সুস্পষ্ট ও অমোচনীয়ভাবে মুদ্রিত থাকতে হবে। আদেশে আরও বলা হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর বা তার পর সরবরাহ করা সব সিগারেটের ক্ষেত্রে (পূর্বে উৎপাদিত এবং গুদামজাতকৃত পণ্যসহ) এই নতুন মূল্যস্তর অনুযায়ী শুল্ক-কর আদায় নিশ্চিত করতে হবে।


























