Dhaka ০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বিটিএমসির বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ: কর্মসংস্থান হবে ৩ হাজার মানুষের

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন মাগুরা টেক্সটাইল মিলকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। কারখানা দুটি চালু করতে বেসরকারি অংশীদারদের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত প্রস্তাবনায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি পিপিপি মডেলে পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে নির্বাচিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘চর্কা টেক্সটাইল লিমিটেড’। এ প্রকল্পে সরকারের সরাসরি কোনো আর্থিক মূলধন থাকবে না; রাষ্ট্র মূলত মিলের জমি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে আর যাবতীয় অর্থায়নের যোগান দেবে বেসরকারি অংশীদার। বিটিএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে যে ১৬টি কারখানা পিপিপিতে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এটি তার অন্যতম। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে ৪টি কারখানা বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি ১৬.০৬ একর জমির ওপর নির্মিত, যা ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল। পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই মিলটি চালুর জন্য চর্কা টেক্সটাইল লিমিটেডকে পছন্দনীয় দরদাতা হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় চুক্তির প্রস্তাব তোলা হলে সিদ্ধান্ত হয় যে, ‘বাংলাদেশ সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব আইন, ২০১৫’ রদ করে নতুন আইন পাশের পর প্রস্তাবটি আবার আনতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৬ জুলাই ওই আইন বাতিল করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়। নতুন এই আইনের ৩১ ধারার বিধিসমূহ অনুসরণ করে মাগুরা টেক্সটাইল মিল হস্তান্তরের উদ্যোগটি নতুন করে বোর্ডে পেশ করা হয়।

স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তি অনুযায়ী, মাগুরা টেক্সটাইল মিল পরিচালনার জন্য ৩০ বছরের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। জমি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কারণে বেসরকারি অংশীদার এককালীন ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে বিটিএমসিকে ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রদান করবে। এছাড়া প্রথম তিন বছরের রেয়াত বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ পার হওয়ার পর থেকে বার্ষিক ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা হারে বিটিএমসিকে কনট্রাক্ট ফি পরিশোধ করতে হবে।

অপরদিকে, নীলফামারীর ৩৭.৮৬ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি ১৯৮০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত উৎপাদনে ছিল। এটি পুনরায় সচল করতে ঢাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড’-কে বিজয়ী দরদাতা বা প্রেফার্ড বিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তির মেয়াদ থাকবে ৩০ বছর। ভূমির স্বত্ব ব্যবহারের জন্য বিটিএমসিকে এককালীন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি দেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড পার হলে প্রতি মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা হারে বিটিএমসিকে চুক্তিভিত্তিক ফি দিতে হবে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় চুক্তিপত্রটি পেশ করা হলে সে বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরবর্তীকালে আইনি মতামত অন্তর্ভুক্ত করে চুক্তিটি পরিমার্জন করা হয়। পরবর্তীতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ৩১ ধারার বিধান মেনে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়।

প্রকল্প পরিচালনায় ডেভেলপমেন্ট ফি হিসেবে দুটি প্রকল্পের জন্য আলাদাভাবে ৫০ লাখ টাকা করে পিপিপি কর্তৃপক্ষকে দেবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা। একই সাথে বিটিএমসির অনুকূলে প্রতি প্রকল্পের বিপরীতে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা করে মোট ৫ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।

প্রস্তাবে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, কেবল দারোয়ানী টেক্সটাইল প্রকেল্পই প্রায় ২০০ কোটি টাকার নতুন মূলধন যুক্ত হবে এবং এতে অন্তত ৩ হাজার স্থানীয় অধিবাসীর প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পিপিপি কাঠামোর মাধ্যমে বন্ধ টেক্সটাইল মিলগুলো নতুন জীবন পেলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা উৎপাদনে গতি এনে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিটিএমসির বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ: কর্মসংস্থান হবে ৩ হাজার মানুষের

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন মাগুরা টেক্সটাইল মিলকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। কারখানা দুটি চালু করতে বেসরকারি অংশীদারদের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত প্রস্তাবনায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি পিপিপি মডেলে পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে নির্বাচিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘চর্কা টেক্সটাইল লিমিটেড’। এ প্রকল্পে সরকারের সরাসরি কোনো আর্থিক মূলধন থাকবে না; রাষ্ট্র মূলত মিলের জমি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে আর যাবতীয় অর্থায়নের যোগান দেবে বেসরকারি অংশীদার। বিটিএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে যে ১৬টি কারখানা পিপিপিতে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এটি তার অন্যতম। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে ৪টি কারখানা বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি ১৬.০৬ একর জমির ওপর নির্মিত, যা ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল। পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই মিলটি চালুর জন্য চর্কা টেক্সটাইল লিমিটেডকে পছন্দনীয় দরদাতা হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় চুক্তির প্রস্তাব তোলা হলে সিদ্ধান্ত হয় যে, ‘বাংলাদেশ সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব আইন, ২০১৫’ রদ করে নতুন আইন পাশের পর প্রস্তাবটি আবার আনতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৬ জুলাই ওই আইন বাতিল করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়। নতুন এই আইনের ৩১ ধারার বিধিসমূহ অনুসরণ করে মাগুরা টেক্সটাইল মিল হস্তান্তরের উদ্যোগটি নতুন করে বোর্ডে পেশ করা হয়।

স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তি অনুযায়ী, মাগুরা টেক্সটাইল মিল পরিচালনার জন্য ৩০ বছরের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। জমি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কারণে বেসরকারি অংশীদার এককালীন ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে বিটিএমসিকে ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রদান করবে। এছাড়া প্রথম তিন বছরের রেয়াত বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ পার হওয়ার পর থেকে বার্ষিক ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা হারে বিটিএমসিকে কনট্রাক্ট ফি পরিশোধ করতে হবে।

অপরদিকে, নীলফামারীর ৩৭.৮৬ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি ১৯৮০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত উৎপাদনে ছিল। এটি পুনরায় সচল করতে ঢাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড’-কে বিজয়ী দরদাতা বা প্রেফার্ড বিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তির মেয়াদ থাকবে ৩০ বছর। ভূমির স্বত্ব ব্যবহারের জন্য বিটিএমসিকে এককালীন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি দেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড পার হলে প্রতি মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা হারে বিটিএমসিকে চুক্তিভিত্তিক ফি দিতে হবে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় চুক্তিপত্রটি পেশ করা হলে সে বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরবর্তীকালে আইনি মতামত অন্তর্ভুক্ত করে চুক্তিটি পরিমার্জন করা হয়। পরবর্তীতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ৩১ ধারার বিধান মেনে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়।

প্রকল্প পরিচালনায় ডেভেলপমেন্ট ফি হিসেবে দুটি প্রকল্পের জন্য আলাদাভাবে ৫০ লাখ টাকা করে পিপিপি কর্তৃপক্ষকে দেবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা। একই সাথে বিটিএমসির অনুকূলে প্রতি প্রকল্পের বিপরীতে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা করে মোট ৫ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।

প্রস্তাবে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, কেবল দারোয়ানী টেক্সটাইল প্রকেল্পই প্রায় ২০০ কোটি টাকার নতুন মূলধন যুক্ত হবে এবং এতে অন্তত ৩ হাজার স্থানীয় অধিবাসীর প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পিপিপি কাঠামোর মাধ্যমে বন্ধ টেক্সটাইল মিলগুলো নতুন জীবন পেলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা উৎপাদনে গতি এনে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।