Dhaka ১০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

উদ্যোক্তা সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

একসময়ের জমজমাট ও প্রাণবন্ত রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরী এখন নানা সংকটে জর্জরিত। নিরাপত্তাহীনতা, ভাঙাচুরা রাস্তাঘাট, নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল দশা, তীব্র পুঁজির অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে এই শিল্পাঞ্চলের একের পর এক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ছে। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো উদ্যোক্তা তৈরি না হওয়ায় এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত শিল্পনগরীর নতুন শিল্প মালিক সমিতির পরিচিতি সভায় উদ্যোক্তারা তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশার কথা প্রকাশ করেন। সভায় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক খলিলুর রহমান জানান, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর এই প্রথম কোনো কমিটি তাদের ডেকে সমস্যা শোনার উদ্যোগ নিয়েছে। নানা জটিলতায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পেরে তিনি তার বরাদ্দকৃত প্লটটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

খলিলুর রহমান জানান, শিল্পনগরীর ৯ হাজার বর্গফুটের প্লটে প্রথমে ডালমিল এবং পরবর্তীতে থান কাপড়ের কারখানা গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তবে দূরবর্তী স্থানে বসবাসের কারণে নিয়মিত তদারকি করতে না পারায় তার ব্যবসায় ধস নামে। কারখানা থেকে মোটর চুরির ঘটনা ঘটলেও বিসিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি। পরবর্তীতে জমির খাজনা, বার্ষিক কর এবং আয়করের চাপে তার ব্যবসা সম্পূর্ণ রুগ্ন হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পেনশনের ও ভাতার টাকা দিয়ে তাকে দেনা শোধ করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৫.২৮ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ৭৭টি প্লটের মধ্যে ৭৬টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে মোট শিল্প ইউনিট রয়েছে ৫৩টি, যার মধ্যে কর্তৃপক্ষের হিসাবে মাত্র ৩৫টি চালু রয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ইউনিট রুগ্ন বা বন্ধ এবং ৬টি বাতিল করা হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে আরও একটি ইউনিট বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।

উদ্যোক্তাদের আভিযোগ, কাগজে-কলমে কারখানাগুলোর চালুর যে হিসাব দেখানো হয়, বাস্তব অবস্থা তার চেয়ে অনেক বেশি করুণ। অনেক প্রতিষ্ঠান ধুঁকে ধুঁকে চললেও অনেকে দেনার দায়ে কিংবা বয়সের ভারে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বরাদ্দ নেওয়া প্লট গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

উদ্যোক্তা সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময়ের জমজমাট ও প্রাণবন্ত রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরী এখন নানা সংকটে জর্জরিত। নিরাপত্তাহীনতা, ভাঙাচুরা রাস্তাঘাট, নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল দশা, তীব্র পুঁজির অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে এই শিল্পাঞ্চলের একের পর এক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ছে। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো উদ্যোক্তা তৈরি না হওয়ায় এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত শিল্পনগরীর নতুন শিল্প মালিক সমিতির পরিচিতি সভায় উদ্যোক্তারা তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশার কথা প্রকাশ করেন। সভায় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক খলিলুর রহমান জানান, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর এই প্রথম কোনো কমিটি তাদের ডেকে সমস্যা শোনার উদ্যোগ নিয়েছে। নানা জটিলতায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পেরে তিনি তার বরাদ্দকৃত প্লটটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

খলিলুর রহমান জানান, শিল্পনগরীর ৯ হাজার বর্গফুটের প্লটে প্রথমে ডালমিল এবং পরবর্তীতে থান কাপড়ের কারখানা গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তবে দূরবর্তী স্থানে বসবাসের কারণে নিয়মিত তদারকি করতে না পারায় তার ব্যবসায় ধস নামে। কারখানা থেকে মোটর চুরির ঘটনা ঘটলেও বিসিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি। পরবর্তীতে জমির খাজনা, বার্ষিক কর এবং আয়করের চাপে তার ব্যবসা সম্পূর্ণ রুগ্ন হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পেনশনের ও ভাতার টাকা দিয়ে তাকে দেনা শোধ করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৫.২৮ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ৭৭টি প্লটের মধ্যে ৭৬টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে মোট শিল্প ইউনিট রয়েছে ৫৩টি, যার মধ্যে কর্তৃপক্ষের হিসাবে মাত্র ৩৫টি চালু রয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ইউনিট রুগ্ন বা বন্ধ এবং ৬টি বাতিল করা হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে আরও একটি ইউনিট বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।

উদ্যোক্তাদের আভিযোগ, কাগজে-কলমে কারখানাগুলোর চালুর যে হিসাব দেখানো হয়, বাস্তব অবস্থা তার চেয়ে অনেক বেশি করুণ। অনেক প্রতিষ্ঠান ধুঁকে ধুঁকে চললেও অনেকে দেনার দায়ে কিংবা বয়সের ভারে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বরাদ্দ নেওয়া প্লট গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।