বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করে যাচ্ছে দেশটি। ঢাকা থেকে বর্তমান প্রশাসন সুনির্দিষ্ট তাগিদ পাঠানো সত্ত্বেও নয়াদিল্লি সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে রিজভী বলেন, প্রায় ১,৪০০ তরুণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রাণহানির জন্য দায়ী শেখ হাসিনাকে ভারত নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছে। এর পাশাপাশি যারা মুক্তিকামী জনতার ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে ও গণহত্যা সংঘটিত করেছে, তারাও সেখানে আত্মগোপন করে আছে। দেশের আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এক সাবেক মেজরকে যদি ভারত সরকার শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করতে পারে, তবে বর্তমান গণহত্যার আসামিদের কেন বাংলাদেশের কাছে ফেরত দেওয়া হচ্ছে না? সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী ব্যাখ্যা দেন, একজন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁকে প্রাপ্য সম্মান না দিয়ে কেবল বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই কারণে তিনি উক্ত অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিএনপি নেতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করার পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়, যা মূলত ভারতের একটি ‘কূটকৌশল’।
দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট বিষয়ে তিনি জানান, এটি মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থা এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার কারণে সৃষ্ট একটি বৈশ্বিক প্রভাব। এই জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং মিয়ানমারসহ পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে গ্যাস আমদানির পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা ফেরায় তিনি বিদ্যমান অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার প্রশংসা করেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, গত ১৬ বছরজুড়ে দেশে অবাধে লুটপাট, অর্থ পাচার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিরোধী দলগুলো সরকারের কঠোর সমালোচনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে এবং কোনো রাজনৈতিক নেতা গুম কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও মহান অর্জনকে মুছে ফেলার কোনো চক্রান্ত এ দেশের মানুষ বরদাশত করবে না। মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’-এ রূপান্তর করার যেকোনো চিন্তা শহীদ মধুর মহান আত্মত্যাগের প্রতি চরম অপমানজনক। উক্ত মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





















