শিশুর জ্বর কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা এবং সাধারণ ওষুধে না কমার পাশাপাশি শরীরে বিশেষ ধরনের র্যাশ বা লাল ফুসকুড়ি দেখা দিলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একাধিক উপসর্গের মধ্যে চোখের সাদা অংশ লাল হয়ে যাওয়া, ঠোঁট শুষ্ক ও ফেটে যাওয়া, জিব অস্বাভাবিক লাল হওয়া, গলার লসিকা গ্রন্থি (লিম্ফ নোড) ফুলে যাওয়া, হাত-পায়ের তালু ফোলা এবং শিশুর চরম খিটখিটে আচরণ কাওয়াসাকি রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু না হলে এই ব্যাধি শিশুর হৃদ্যন্ত্রের ওপর মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
কাওয়াসাকি মূলত শিশুদের একটি প্রদাহজনিত রোগ, যা শরীরের রক্তনালি—বিশেষ করে হৃদ্যন্ত্রের রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনিগুলোকে আক্রান্ত করে। সাধারণত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সের শিশু এতে আক্রান্ত হতে পারে। যদিও এই রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে বিভিন্ন সংক্রমণ, জিনগত কারণ ও পরিবেশগত উপাদানের প্রভাবে এটি দেখা দিতে পারে।
এই রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হলো করোনারি ধমনিতে প্রদাহ তৈরি হয়ে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়া। লক্ষণ শনাক্তের পর দ্রুত হাসপাতালে শিশুর অবস্থা বুঝে চিকিৎসা শুরু করা হলে এই ঝুঁকি বহুলাংশে কমানো সম্ভব। প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকেরা সাধারণত নির্দিষ্ট ইমিউনোগ্লোবুলিন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ও সুনির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়া অভিভাবক কর্তৃক নিজ উদ্যোগে কোনো ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা একেবারেই অনুচিত।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের সব জ্বরই কাওয়াসাকি নয় এবং কেবল জ্বর বা র্যাশ থাকলেই কাওয়াসাকি হয়েছে বলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে কয়েক দিন ধরে জ্বর চলতে থাকলে এবং তার সঙ্গে চোখ লাল হওয়া, মুখ ও হাত-পায়ের পরিবর্তন লক্ষ করা গেলে অবিলম্বে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।


























