তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবসায়ীদের ‘মাফিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এই গণশুনানির শেষ পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুনানিতে অংশ নিয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সদস্য শাহ আলম সরকার বলেন, “বিইআরসি কেবল একটি দাম নির্ধারণ করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করে দেয়। কিন্তু এলপিজি ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে তাদের ইচ্ছামতো দাম আদায় করে। এসব ‘মাফিয়া ডন’দের নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।”
এ সময় ‘মাফিয়া’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলেন গণশুনানি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। শাহ আলম সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি তাদের মাফিয়া বলতে পারেন না।” জবাবে শাহ আলম সরকার বলেন, “পত্রিকাগুলো তাদের অহরহ মাফিয়া বলছে। তারা মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ১ হাজার ৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার এখন আড়াই হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। আপনারা শুধু দাম ঘোষণা করেই বসে আছেন। তাহলে তাদের মাফিয়া বলব না তো কী বলব?”
জালাল আহমেদ আবারও জোর দিয়ে বলেন, “পত্রিকাগুলো তাদের মাফিয়া বললেও আপনি বলতে পারেন না, অন্তত এখানে বলবেন না।” বিইআরসি চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যে উপস্থিত সাধারণ শ্রোতারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অনেকে চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি এখন বিচারকের আসনে আছেন। কেন ব্যবসায়ীদের পক্ষে ওকালতি করছেন?”
এই ঘটনায় কিছুক্ষণের জন্য পুরো হলরুমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলপিজি ব্যবসায়ীদের একাংশ শাহ আলম সরকারকে থামানোর চেষ্টা করেন, অন্যদিকে ক্যাবসহ অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। অবশ্য স্বল্প সময়ের মধ্যেই কমিশন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।


























