Dhaka ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

টোকিওর কানতেই ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সানায়ে তাকাইচির উষ্ণ সংবর্ধনা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

জাপান সফরে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশটির রাজধানী টোকিওতে পরম শ্রদ্ধা ও উষ্ণ আতিথেয়তায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় টোকিওতে অবস্থিত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় ‘কানতেই’-তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে তাঁকে এই উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের ঠিক পূর্বে জাপানের প্রথমার্ঘের রাষ্ট্রপ্রধান সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান।

টোকিওর কানতেই চত্বরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত ও চৌকস দলের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী সর্বোচ্চ ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় দুই দেশের রাষ্ট্রীয় সামরিক ব্যান্ডে জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পরিবেশিত হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুসজ্জিত সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ ও গার্ড পরিদর্শন করেন। বিশেষ এই সম্মানজনক গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালাম গ্রহণ করেন।

রাজকীয় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে সফররত উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সাথে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। ঠিক একইভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রীও তাঁর সরকারের মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন।

পরিচয় পর্বের সকল আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ভবনের মূল কক্ষে প্রবেশের মুখে রাখা নির্ধারিত বিশেষ স্মৃতি পরিদর্শন বইতে (ভিজিটরস বুক) ঐতিহ্যবাহী স্বাক্ষর প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পর দুই দেশের শীর্ষ নেতা একান্তে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।

পরবর্তীতে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সার্বিক সুফল ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে দুপুরে দুই প্রধানমন্ত্রী এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুপুরে তাঁর কার্যালয় কানতেইতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের সম্মানে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন করেছেন। উক্ত মধ্যাহ্নভোজের শুরুতে স্বাগতিক জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত স্বাগত ভাষণ দেবেন এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে ভাষণ দেবেন এবং পাল্টা শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহুগুণ শক্তিশালী করা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়ানো, বিভিন্ন উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাতে জাপানের অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং বিশ্ব ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা সংবেদনশীল বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে জাপানের রাজধানী টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখী দীর্ঘ প্রশস্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা টানিয়ে দৃষ্টিনন্দন সাজে সজ্জিত করা হয়।

চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরাম’-এ মূল বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং পাশাপাশি জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করেন। তখন বিমানবন্দরে তাঁকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনায় স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি ও পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরের একেবারে প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় দল, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির’ (জাইকা) মহামান্য প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক পৃথক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন।

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সৌজন্য বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাঁদের প্রথম ঐতিহাসিক সাক্ষাতের স্মৃতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক সুসম্পর্ক রক্ষায় তারো আসোর অসামান্য অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন এবং তাঁকে পুনরায় বাংলাদেশ সফরের সুবিধাজনক সময়ে আসার আমন্ত্রণ জানান বলে টোকিওতে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সাথে আয়োজিত অন্য বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দুই দেশের ইপিএ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন শিল্পে জাপানি বৈদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

এ সময় চট্টগ্রামস্থ ‘কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ (কাফকো)-এর সার্বিক আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে নতুন করে দ্বিতীয় একটি আধুনিক সার কারখানা স্থাপনের কারিগরি সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের মেগা অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে জাপানের প্রযুক্তি ও ঋণের অব্যাহত সহযোগিতা জোরদার করা, চলমান গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষ জনশক্তি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিভিন্ন দূরদর্শী প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করা হয়।

এর বাইরেও দেশে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ ও নতুন ‘উদ্ভাবন নগরী’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কথা উঠে আসে। দেশটির প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আধুনিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো উক্ত বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল টোকিও সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ উচ্চপ্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে আরও রয়েছেন— ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের তৃতীয় রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি সফল রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ও চীন গমন করেছিলেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেছিলেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

টোকিওর কানতেই ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সানায়ে তাকাইচির উষ্ণ সংবর্ধনা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জাপান সফরে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশটির রাজধানী টোকিওতে পরম শ্রদ্ধা ও উষ্ণ আতিথেয়তায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় টোকিওতে অবস্থিত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় ‘কানতেই’-তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে তাঁকে এই উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের ঠিক পূর্বে জাপানের প্রথমার্ঘের রাষ্ট্রপ্রধান সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান।

টোকিওর কানতেই চত্বরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত ও চৌকস দলের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী সর্বোচ্চ ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় দুই দেশের রাষ্ট্রীয় সামরিক ব্যান্ডে জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পরিবেশিত হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুসজ্জিত সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ ও গার্ড পরিদর্শন করেন। বিশেষ এই সম্মানজনক গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালাম গ্রহণ করেন।

রাজকীয় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে সফররত উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সাথে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। ঠিক একইভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রীও তাঁর সরকারের মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন।

পরিচয় পর্বের সকল আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ভবনের মূল কক্ষে প্রবেশের মুখে রাখা নির্ধারিত বিশেষ স্মৃতি পরিদর্শন বইতে (ভিজিটরস বুক) ঐতিহ্যবাহী স্বাক্ষর প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পর দুই দেশের শীর্ষ নেতা একান্তে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।

পরবর্তীতে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সার্বিক সুফল ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে দুপুরে দুই প্রধানমন্ত্রী এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুপুরে তাঁর কার্যালয় কানতেইতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের সম্মানে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন করেছেন। উক্ত মধ্যাহ্নভোজের শুরুতে স্বাগতিক জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত স্বাগত ভাষণ দেবেন এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে ভাষণ দেবেন এবং পাল্টা শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহুগুণ শক্তিশালী করা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়ানো, বিভিন্ন উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাতে জাপানের অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং বিশ্ব ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা সংবেদনশীল বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে জাপানের রাজধানী টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখী দীর্ঘ প্রশস্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা টানিয়ে দৃষ্টিনন্দন সাজে সজ্জিত করা হয়।

চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরাম’-এ মূল বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং পাশাপাশি জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করেন। তখন বিমানবন্দরে তাঁকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনায় স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি ও পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরের একেবারে প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় দল, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির’ (জাইকা) মহামান্য প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক পৃথক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন।

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সৌজন্য বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাঁদের প্রথম ঐতিহাসিক সাক্ষাতের স্মৃতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক সুসম্পর্ক রক্ষায় তারো আসোর অসামান্য অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন এবং তাঁকে পুনরায় বাংলাদেশ সফরের সুবিধাজনক সময়ে আসার আমন্ত্রণ জানান বলে টোকিওতে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সাথে আয়োজিত অন্য বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দুই দেশের ইপিএ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন শিল্পে জাপানি বৈদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

এ সময় চট্টগ্রামস্থ ‘কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ (কাফকো)-এর সার্বিক আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে নতুন করে দ্বিতীয় একটি আধুনিক সার কারখানা স্থাপনের কারিগরি সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের মেগা অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে জাপানের প্রযুক্তি ও ঋণের অব্যাহত সহযোগিতা জোরদার করা, চলমান গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষ জনশক্তি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিভিন্ন দূরদর্শী প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করা হয়।

এর বাইরেও দেশে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ ও নতুন ‘উদ্ভাবন নগরী’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কথা উঠে আসে। দেশটির প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আধুনিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো উক্ত বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল টোকিও সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ উচ্চপ্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে আরও রয়েছেন— ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের তৃতীয় রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি সফল রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ও চীন গমন করেছিলেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেছিলেন।