Dhaka ০৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:২০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে

জাপানের সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিশেষ আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে চার দিনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে সফলভাবে জাপানে এসে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান-এর নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটটি আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) টোকিওর ঐতিহাসিক নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তাঁকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা।

এই অভ্যর্থনাকালে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে সীমিতসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, জাপানে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই জাপানি নেত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারি কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। ওই শীর্ষ বৈঠকের পর উভয় দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে এবং পরবর্তীতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত বিশেষ মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

চার দিনব্যাপী বিস্তৃত এই সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বসবেন। এর পাশাপাশি তিনি জাপানের বিভিন্ন আধুনিক শিল্পক্ষেত্র ও কৌশলগত জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন এবং মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল বক্তা হিসেবে নিজস্ব প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম নিশ্চিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফর দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও বহুগুণ জোরদার করবে, নতুন বিনিয়োগের দিগন্ত উন্মোচন করবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ করবে এবং চলমান বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পকে নতুন গতি প্রদান করবে।

উভয় দেশের এই শীর্ষ আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ)-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদার করার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

তদ্ব্যতীত, উভয় পক্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, কৃষিক্ষেত্র, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঠাসা সফরসূচির মধ্যে রয়েছে—’জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর সুযোগ্য চেয়ারম্যানদের সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।

পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান যে, বিশ্বখ্যাত সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং খ্যাতনামা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আশা প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে সরাসরি জাপানি শিল্পকারখানা স্থাপন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানি কারিগরি সহায়তার বিষয়ে নিবিড় ও বিস্তৃত আলোচনা চালানো হবে।

দুদেশের এই শীর্ষ বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও সম্মানজনক শান্তিপূর্ণ সমাধান, বিশ্বব্যাপী তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে যৌথ প্রচেষ্টার মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো স্থান পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন—অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

প্রতিনিধিদলে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন—বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মানিত সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ও নির্ভরযোগ্য প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে আসছে। জাপানি অর্থায়ন ও প্রযুক্তিতে রাজধানী ঢাকার মেট্রোরেল project, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃষ্টিনন্দন তৃতীয় টার্মিনাল এবং মহেশখালীর মাতারবাড়িতে মেগা গভীর সমুদ্রবন্দরসহ অসংখ্য বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিচারে, বাংলাদেশের স্বাধীন স্থপতিদের ধারাবাহিকতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে দ্বিপক্ষীয় সফরে জাপান সফর করেছিলেন, এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে এশিয়ার এই প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশটিতে সরকারি সফরে গিয়েছিলেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:২০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিশেষ আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে চার দিনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে সফলভাবে জাপানে এসে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান-এর নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটটি আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) টোকিওর ঐতিহাসিক নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তাঁকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা।

এই অভ্যর্থনাকালে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে সীমিতসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, জাপানে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই জাপানি নেত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারি কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। ওই শীর্ষ বৈঠকের পর উভয় দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে এবং পরবর্তীতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত বিশেষ মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

চার দিনব্যাপী বিস্তৃত এই সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বসবেন। এর পাশাপাশি তিনি জাপানের বিভিন্ন আধুনিক শিল্পক্ষেত্র ও কৌশলগত জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন এবং মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল বক্তা হিসেবে নিজস্ব প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম নিশ্চিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফর দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও বহুগুণ জোরদার করবে, নতুন বিনিয়োগের দিগন্ত উন্মোচন করবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ করবে এবং চলমান বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পকে নতুন গতি প্রদান করবে।

উভয় দেশের এই শীর্ষ আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ)-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদার করার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

তদ্ব্যতীত, উভয় পক্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, কৃষিক্ষেত্র, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঠাসা সফরসূচির মধ্যে রয়েছে—’জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর সুযোগ্য চেয়ারম্যানদের সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।

পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান যে, বিশ্বখ্যাত সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং খ্যাতনামা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আশা প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে সরাসরি জাপানি শিল্পকারখানা স্থাপন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানি কারিগরি সহায়তার বিষয়ে নিবিড় ও বিস্তৃত আলোচনা চালানো হবে।

দুদেশের এই শীর্ষ বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও সম্মানজনক শান্তিপূর্ণ সমাধান, বিশ্বব্যাপী তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে যৌথ প্রচেষ্টার মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো স্থান পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন—অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

প্রতিনিধিদলে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন—বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মানিত সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ও নির্ভরযোগ্য প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে আসছে। জাপানি অর্থায়ন ও প্রযুক্তিতে রাজধানী ঢাকার মেট্রোরেল project, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃষ্টিনন্দন তৃতীয় টার্মিনাল এবং মহেশখালীর মাতারবাড়িতে মেগা গভীর সমুদ্রবন্দরসহ অসংখ্য বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিচারে, বাংলাদেশের স্বাধীন স্থপতিদের ধারাবাহিকতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে দ্বিপক্ষীয় সফরে জাপান সফর করেছিলেন, এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে এশিয়ার এই প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশটিতে সরকারি সফরে গিয়েছিলেন।