শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সম্পূর্ণ নতুন চারটি ভিন্নমাত্রার পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ নামক বইগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা পরিহার করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাকে আনন্দময়, জীবনমুখী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ করে তোলাই এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৫ বছরের রূপকল্প, বহুমুখী গবেষণা ও নির্দেশনার আলোকে এনসিটিবি এই নতুন পাঠ্যপুস্তকগুলো শিক্ষাক্রমে যুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের অংশ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময় ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করতে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সামাজিক শিষ্টাচার ও সুনাগরিকের গুণাবলি বিকাশের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এনসিটিবি বরেণ্য শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে এই পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করেছে। আগামীকাল ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) বিশেষ সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কপি বই মুদ্রণের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন এই চার বইয়ের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে এনসিটিবি জানায়, চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতারের মতো প্রচলিত খেলার পাশাপাশি আত্মরক্ষামূলক কৌশল এবং আকস্মিক ইনজুরিতে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটিতে দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক রীতিনীতির পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ির’ ইতিহাস ঠাঁই পেয়েছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটিতে ভীতিহীন ও আনন্দময় শিখনদর্শনের মাধ্যমে মুখস্থনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহার ও সমস্যা সমাধানের বাস্তবমুখী দক্ষতায় স্বাবলম্বী করার ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বিষয়গুলো প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।






















