মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার বিচারে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান ঐতিহাসিক আইনি মামলার প্রতি নিজেদের সুদৃঢ় সমর্থন পুনরায় ব্যক্ত করেছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর সদস্য দেশগুলো। তারা দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছে যে, আন্তর্জাতিক এই আইনি বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিনের জটিল রোহিঙ্গা সংকটের এক টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের পথ সুগম করবে।
পবিত্র ইরাকের রাজধানী বাগদাদে স্থানীয় সময় রোববার (১৮ অক্টোবর) আয়োজিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের (সিএফএম) ৫২তম বিশেষ অধিবেশনে ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা বিষয়ক ওআইসি মন্ত্রী পর্যায়ের অ্যাড-হক কমিটি’-এর এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভাতেই মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উক্ত অ্যাড-হক কমিটির সভায় সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এই মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে একজোট হয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা সমস্যাকে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অন্যতম প্রধান জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি এর মানবিক সহায়তা এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়াকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সুসংহত যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
এর পাশাপাশি, সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উপস্থাপিত ঐতিহাসিক পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনার কথা জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সার্বিক ন্যায়বিচার এবং অপরাধীদের কঠোর জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করতে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।






















