মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান উপেক্ষা করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হামলাকে চলতি বছরের অন্যতম বৃহৎ হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালকে লক্ষ্য করে চালানো হয় এই হামলা, যার সক্ষমতা বছরে ১ কোটি ২৫ লাখ টন পর্যন্ত তেল প্রক্রিয়াজাত করা।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিলেও, আসন্ন শীতের আগে মার্কিন সমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত রেখেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রোববার দিবাগত রাতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে উড়ে আসা ইউক্রেনের ১ হাজার ১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। হামলার পর টার্মিনাল এলাকায় আগুন ধরে যায় বলে ড্রোন প্রস্তুতকারী ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্ট জানিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওজোন জানিয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গে তাদের একটি পণ্য সরবরাহকেন্দ্রেও হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনও।
ইউক্রেনের এসব হামলার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েনও বাড়ছে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেল ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এমন সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে কিয়েভ ও মস্কো—কোনো পক্ষই এ ধরনের চুক্তির কথা নিশ্চিত করেনি।
ইউক্রেন সাময়িকভাবে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখলেও পরে তা আবার শুরু করে। অন্যদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা ও শহরগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটিতে ১১ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ওদেসা অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় চালানো বড় ধরনের হামলাও রয়েছে।























