লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বামনদল সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক ১২ জন নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে বা পুশ-ইন করার একটি হীন চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র অত্যন্ত সতর্ক ও কঠোর নজরদারির কারণে বিএসএফের এই অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সীমান্তবর্তী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও একধরনের চাপা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
দায়িত্বশীল বিজিবি ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে আনুমানিক ৩টার দিকে পাটগ্রামের বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের ৮৩৮/১ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে এই পুশ-ইনের অপচেষ্টা চালানো হয়। রাতের অন্ধকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএসএফ সদস্যরা দলবদ্ধভাবে ২ জন শিশু, ২ জন নারী এবং ৮ জন পুরুষসহ মোট ১২ জন ব্যক্তিকে একসঙ্গে জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমানায় ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে টের পেয়ে ওই এলাকায় টহলরত বিজিবির বিশেষ দল দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়ে তাদের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে। বিজিবির এই আপসহীন ও দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিএসএফ তাদের সেই অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও নিশ্চিত করেছে যে, বিজিবির কঠোর বাধার মুখে পড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে ওই ১২ জন ব্যক্তি বর্তমানে জিরো লাইন বা শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০০ গজ দূরে অবস্থান করছেন। ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় এ ধরনের কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ওই সীমান্ত অঞ্চলের পুরো এলাকাজুড়ে বিজিবির কঠোর টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে সীমান্ত নীতি লঙ্ঘন করে এমন অনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই অংশ হিসেবে আজ রবিবার সকালে বিএসএফের কাছে এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়ে এবং জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের (ফ্ল্যাগ মিটিং) আহ্বান করেছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ। মূলত কী উদ্দেশ্যে এবং কোন প্রেক্ষাপটে বিএসএফ রাতের আঁধারে এই ১২ জনকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তা উক্ত পতাকা বৈঠকের আলোচনার মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।
পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের সম্মানিত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম শাহীন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ১২ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা আমাদের অত্যন্ত সতর্ক ও চৌকস টহল দলের সময়োপযোগী বাধায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে জরুরি পতাকা বৈঠকের আহ্বান করেছি। আলোচনার মাধ্যমে পুরো সংকটের সুরাহা করার জোর প্রচেষ্টা চলছে। আমাদের সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে সর্বাত্মক নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”






















